দারাজের পণ্য কিনে ঠকছে ক্রেতা; দেখায় এক পাঠায় অন্য

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঘরে বসে অনলাইন কেনাকাটা সুযোগ দিয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান দারাজ ইতোমধ্যে পার করেছে পাঁচ বছর। নানা কার্যক্রম ও সারাদেশের অসংখ্য পয়েন্টের মাধ্যমে দারাজ ক্রেতাদের খুব কাছে যাবার চেষ্টা করছে। কিন্তু সেই চেষ্টায় পানি ঢেলে দিচ্ছে ক্রেতাদের প্রতারিত হবার অভিযোগ।

দারাজের পণ্য কিনে প্রতারিত হবার অভিযোগ করেছে অনেক ক্রেতা। অনলাইনে একটি পণ্য দেখে পছন্দ হবার পরে কিনে হাতে পেয়ে দেখা যাচ্ছে অন্য পণ্য বা সেই পণ্যটি একেবারের মানহিন এমন অভিযোগ করেছে অনেক ক্রেতা।

www.linkhaat.com

উত্তরা ইউনিভার্সিটি, নর্দান ইউনিভার্সিটি, ব্রাক ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে দারাজ সম্পর্কে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

অন্তর নামের এই ক্রেতা জানান, ১৮০০ টাকা দিয়ে একটি জুতার অর্ডার দিয়ে ছিলাম দারাজে। কিন্ত যখন সেই পণ্য আমি হাতে পেলাম তখন দেখা গেল সেই জুতা অত্যন্ত নিম্নমানের। জুতোতে কোথায় একটুও চামড়া নেই। পুরোটাই র‌্যাক্সিনের। দারাজের উপর থেকে আমার বিশ্বাস উঠে গেছে, আমি আর কখনই দারাজে কোন কিছু কেনাকাটা করবো না।

চাঁদনী নূর নামের উত্তরা ইউনিভার্সিটি এক ছাত্রী অভিযোগ করেছেন অনলাইন শপিং কোম্পানি দারাজ, পণ্যের আসল দাম ৫০০ টাকা থাকলেও সেই পণ্যে ৬৫০ টাকা ছাড় দিয়েছে বিক্রি করে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবির নামের এক ক্রেতা জানান, অনলাইনে দারাজের পণ্য আর বাস্তবে দারাজের পণ্যের ভিতর অনেক পার্থক্য রয়েছে। অনলাইনে রংচঙ্গা পণ্যের প্রদর্শনী কিন্তু বাস্তবে হাতে পাবার পরে সেই পণ্যের গুনাগতমান নিয়ে থাকে প্রশ্ন। অনেক পণ্যের দাম খোলা বাজার থেকে অনেক বেশি রাখা হয় দারাজে। সেই সাথে সময়মত পণ্য হাতে না পাবারও অভিযোগ রয়েছে হলের অনেক ছাত্রের।

ছাড়ের নামে এমন প্রতারণার অভিযোগের এর আগেও দারাজকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এক লাখ টাকা জরিমানা করেছিল।

সম্প্রতি রাজধানীর বনানীতে দারাজের প্রধান কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে গিয়ে ৫০ টাকার মাস্ক ২ হাজার ২৫৫ টাকায় বিক্রি করার প্রমাণ পেয়ে দারাজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করে আদালত।

এর আগে হাসান মাহমুদ নামের এক ব্যক্তি দারাজের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ করে বলেন, বিশেষ ছাড়ের বিজ্ঞাপন দিয়ে দারাজ ১৫০০ টাকার স্কাই শপের কোমরে বাঁধার বেল্ট ৮৫০ টাকায় বিক্রি করছে। এ বিজ্ঞাপন দেখে তিনি একটি বেল্ট কেনার অর্ডার করেন। কিন্তু দারাজ প্রতারণা করে স্কাই শপের বেল্ট না দিয়ে একটি দেশীয় বেল্ট পৌঁছে দেয়। যার মূল্য লেখা ছিল ৫০০ টাকা। অর্থাৎ দারাজ ৫০০ টাকার দেশি বেল্টকে বিদেশি ১৫০০ টাকার বলে বিক্রি করছে।

দারাজের ওয়েবসাইট থেকে একটি মাউস কেনার অর্ডার দেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদ হোসেন শোভন।
তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে দেখানো ছিল দাম ৫৯৯ টাকা। ছাড়ের পর আসে ৩৯৯ টাকা। অর্থাৎ একটি মাউসেই কোম্পানিটি ২০০ টাকা ছাড় দিয়েছে। এক সপ্তাহ পর পণ্যটি নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠাওয়ের এক কর্মী নিয়ে আসেন।

‘তার সামনেই দারাজের প্যাকেট খুলে মাউস বুঝে পাই। পণ্য পেয়ে ওই কর্মীর কাছে রীতিমতো চার্জসহ (৩৯৯+৪৫) ৪৪৪ টাকা বুঝে দিই। কিন্তু ভিতরের প্যাকেট খোলার পরই দেখি, মাউস অত্যান্ত নিম্নমানের যার দাম ১০০ টাকা কম। কিন্তু দারাজের পণ্যের গায়ে লেখা এমআরপি ২৯৯ টাকা। মানে ৩০০ টাকা ছাড়!

সাজ্জাদ বলেন, আমি ৫৯৯ টাকার পণ্য কিনেছি। কিন্তু ডেলিভারির পর ২৯৯ টাকার পণ্য পেয়েছি। এটা কোনওভাবে হতে পারে না। দারাজের মতো প্রতিষ্ঠান এ ধরনের কাজ করতে পারে না।

‘অনলাইনে কেনাকাটার প্রতি আমার আস্থা আছে। কিন্তু দারাজ আমার সঙ্গে বাটপারি করলো। আমি কেন? দারাজ কোনওভাবেই জনগণের সঙ্গে এমন প্রতারণা করতে পারে না। তারা এভাবে জনগণের আস্থা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। দারাজের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ করেন সাজ্জাদ।

এ বিষয়ে দারাজের জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা ফয়েজ আহমেদ বলেন, আমরা অভিযোগটি আমলে নিয়েছি। পণ্যটির বিরুদ্ধে অভিযোগ আসার পরদিনই ভুক্তভোগির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে। বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে।

তবে ভুক্তভোগী সাজ্জাদ বলছেন, তারা আমার সঙ্গে সমঝোতা করার চেষ্টা করেছে। জানিয়েছে টাকা ফেরত নেন, পণ্যও নেন।

শুধু সাজ্জাদ শোভন নয়, দারাজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আগেও এসেছে। মোবাইল অর্ডার করে সাবান পাবার অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে।

স/রা/রা

 

Print Friendly, PDF & Email
Spread the love

Warning: A non-numeric value encountered in /home/chomoknews/public_html/wp-content/themes/Newspaper/includes/wp_booster/td_block.php on line 997