মুন্সীগঞ্জে ১০ হাজার লোকের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ৪টি বাঁশের সাঁকো

এম.এম.রহমান,মুন্সীগঞ্জ: মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের খাস মোল্লাকান্দিসহ ৫টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ৪টি বাঁশের সাঁকো। প্রতিদিন গ্রামের সাধারন মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারন কারন ৪ টি বাঁশের সাঁকো ।

www.linkhaat.com

প্রতিদিনের এমন ভোকান্তিতে পড়েছে ইউনিয়নটির গাব্বা ঢালী কান্দি,চর সেরাজাবাদ, চর ছোট কেওয়ার,মোল্লাবাড়ী, ও খাস মোল্লাকান্দী, দুটি সরকারী গুচ্ছ গ্রামের বাসিন্দারা। ৫ টি গ্রামে জন সংখ্যা রয়েছে প্রায় ১০ হাজার।

অপরদিকে দুটি গুচ্ছগ্রামে পরিবার রয়েছে ৮৬ টি। যারা সবাই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় হচ্ছে ৪ টি বাঁশের সাঁকো । ৪ টি বাঁশের সাঁকোর মধ্যে রজত রেখা নদী উপর সবচেয়ে বড় সাঁকো। পরে রয়েছে মোল্লাবাড়ীতে একটি, চর সেরজাবাদ একটি ও সেরজাবাদ শনিবাড়ী অপর একটিসহ মোট ৪ টি সাঁকো। প্রতিদিন এই সাঁকো গুলো দিয়ে নারী,শিশু, বৃদ্ধসহ সব বয়সের নারী পুরুষ ও স্কুল,কলেজে পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীদের পাড়াপাড় হতে হয়।

শুধু তাই নয় এ গ্রাম গুলোর সাথে সড়ক পথে মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে বিচ্ছিন্ন। মুন্সীগঞ্জ শহরের আসতে হলে বাঁশের সাঁকো দিয়ে রজত রেখা নদী পাড় হয়ে পাশ্ববর্তি উপজেলা টঙ্গিবাড়ীর আলদি বাজার হয়ে আসতে হয়। এ যেন আলোর নিচে এক অন্ধকার জগত। সদরে আসতে তাদেরকে ২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে কংশপুরা এসে গাড়ীতে উঠে মুন্সীগঞ্জ আসতে হয়। রজতরেখা নদীতে ব্রিজ নির্মাণ হলে ৫ মিনিটে ওই গ্রামের লোকগুলো আলদি রোডে আসতে পারে। সেরাজাবাদ এলাকা দিয়ে তারা আলদি, পুরাবাজার, দিঘিরপাড় এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা শহরে যাতায়াত করতে পারবে।

স্থানীয় খাস মোল্লাকান্দী গ্রামের হাজী মোঃ উজির আলী বলেন,জন্মের পর থেকে আমাদের যাতায়েতের প্রধান ভরসা এই বাঁশের সাঁকোগুলো।আমার বয়স এখন ৫৫ আজ পর্যন্ত ৪ টি সাঁকোর একটিও ব্রিজে রুপান্তর হলোনা। সরকারের পর সরকার বদল হলো তবে আমাদের গ্রাম গুলোর মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হলো না।

মোল্লাবাড়ির বাসিন্দা বিল্লাল গাজী বলেন, ৫ গ্রামের মানুষের ভোগান্তার শেষ নাই। নির্বাচন আসলে জন প্রতিনিধিরা কত প্রতিশ্রুতি দেয় নির্বাচন শেষ হলে তা আর ঠিক থাকেনা। এ গ্রাম গুলোর যাতায়েতের ৪ টি সাঁকোর মধ্যে একটি অবস্থিত রজত রেখা নদীর উপরে তার নিজ দিয়ে চলে বিভিন্ন নৌযান। তার পরেও কতটা ভয়ে আর আতঙ্কের মধ্যে আমাদের এই গ্রামগুলোর নারী-শিশু ও পুরুষরা পারাপার হয়। ৪ টি সাঁকোর স্থলে রজত রেখা নদীর উপরের ব্রিজটি খুব জরুরি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে বলেও তিনি দাবী করেন।

গাব্বার ঢালীকান্দি গ্রামের আমেনা বেগম বলেন,আমাদের গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধা সবার যাতায়েতের একমাত্র ভরসা এই বাঁশের সাঁকোগুলো। আমরা এক গ্রাম থেকে অপর গ্রামে যেতে হলে সাঁকো পাড় হতে হয়। আমরা এখন আধীযুগের প্রচীন গ্রামে বাস করছি । অতিদ্রুত এই ৪ টি সাঁকোর মধ্যে রজত রেখা নদীর উপরে একটি ব্রিজ করে দিলে মুন্সীগঞ্জ শহরের সাথে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে।

ইউপি চেয়ারম্যান মহসিনা হক কল্পনা বলেন, গ্রামগুলো দুই উপজেলার সীমান্তবর্তী হওয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থার তেমন উন্নয়ন হয়নি। রজতরেখা নদীতে একটি সাঁকো তৈরী হলে স্থানীয় গ্রামগুলোর মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ফারুক আহাম্মেদ বলেন, গ্রামগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্

700
Print Friendly, PDF & Email