টঙ্গীতে আগামী ১০জানুয়ারি বিশ্ব ইজতেমা শুরু

প্রস্তুতি কাজ চলছে দ্রুত গতিতে

শাহজাহান শোভন, টঙ্গী থেকে : মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় ধর্মীয় সমাবেশ তাবলীগ জামাতের বিশ্ব ইজতেমা টঙ্গীর তুরাগ তীরে ময়দানের প্রস্তুতি কার্যক্রম দ্রুত গতিতে চলছে। ১৬০ একর জায়গার উপর ২বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিশাল চটের প্যান্ডেলের ছামিয়ানার নিচে আগামী ১০জানুয়ারি শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে।

www.linkhaat.com

এই ইজতেমা ১০, ১১, ১২ জানুয়ারি ওলামামাশায়েক তাবলীগ জামাত বাংলাদেশের শীর্ষ মুরুব্বি ও কাকরাইল জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা জোবায়ের আহমেদের অনুসারী মুসল্লিরা এই বিশ্ব ইজতেমায় অংশ নিবেন। ১২ জানুয়ারি রোববার দুপুরে আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ইজতেমা ।

১৩ জানুয়ারী সকালের মধ্যে ময়দান ত্যাগ করতে হবে। পরে মাওলানা সা’দ পন্থী অনুসারী মুসল্লিরা আগামী ১৭ জানুয়ারি শুক্রবার বাদ ফজর থেকে শুরু হওয়া ইজতেমায় অংশ নিবেন। ১৯ জানুয়ারি মধ্যাহ্নের পূর্বে যেকোনো এক সময় আখেরি মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের বিশ্ব ইজতেমা। প্রত্যেক অনুসারীরা ইজতেমা কার্যক্রম শেষে জিম্মাদারগণ ময়দানের দায়িত্ব প্রশাসনের কাছে বুঝিয়ে দিয়ে যাবেন বলে জানা গেছে।

গতকাল রবিবার ইজতেমা মাঠ সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ব ইজতেমাকে সামনে রেখে দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে সবধরণের প্রস্তুতির কাজ। স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার ছাত্রসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে ময়দানে প্যান্ডেল তৈরির কাজ করছেন।

এছাড়া রাস্তা মেরামত, মাইক টানানো, টয়লেট পরিষ্কার-পরিচ্ছন, ময়দানের আগাছা পরিষ্কারের কাজ করছেন আগত মুসল্লিরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৮০শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে বিশ্ব ইজতেমা আয়োজক কমিটি জানান।

ঢাকা লালবাগ এলাকা থেকে আসা মো: ইসমাইল হোসেন জানান, প্রায় ৭০জন ইজতেমার সাথী ভাই নিয়ে ময়দানে কাজ করতে এসেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর মেহমানরা ইবাদত বন্দেগি করতে আসবেন। তারা যেন সুন্দরভাবে ইবাদত বন্দেগি করতে পারেন সেই দিক খেয়াল রেখে ময়দানের কাজ করতে আসছি। বিদেশী মেহমানদের কামরা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করছি। যাতে বিদেশী মেহমানরা ইজতেমা ময়দানে এসে চলাফেরায় কোন প্রকার কষ্ট না পায় সেই দিকে খেয়াল রেখে কাজ করে যাচ্ছি।

মানিকগঞ্জ থেকে আসা আরেক মুসল্লি জাফর জানান, আল্লাহকে রাজি খুশি করার জন্য ২০ বছর যাবত ইজতেমা মাঠে কাজ করছি। আমরা সবসময় দুনিয়াদারী কাজে মগ্ন থাকি। আখিরাতের নেকী হাসিলের উদ্দেশ্যে ইজতেমা ময়দানে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে কাজ করে যাচ্ছি। আগামী বছর হায়াতে বাচিয়ে রাখলে এ ময়দানে আবারো কাজ করতে আসবো। ইজতমো ময়দানে আসার উদ্দশ্যে হলো আল্লাহকে রাজি খুশি করা।

আখরোত সর্ম্পকে জানা। গাজীপুরের কালিগঞ্জ থেকে আসা ৫৫ বছরের হাসান আলী জানান, এ দুনয়িা হচ্ছে ধোকার ঘর। আমরা জীবনে মানুষকে দোকা দিয়েছি সেই গুনাহ থেকে মাফ পাওয়ার জন্য ইজতমো মাঠে এসেছি।

মুসল্লীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ময়দানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় ২০১১ সাল থেকে টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা তিনদিন করে দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে আগামী ১০জানুয়ারি শুরু হয়ে ১২জানুয়ারি জোহরের নামাজের আগে আখেরি মোনাজাতের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে ওলামাশায়েকে (জোবায়ের) গ্রুপের বিশ^ ইজতেমা। মাঝে ৪দিন বিরতি দিয়ে ১৭জানুয়ারি শুরু হবে সা’দ অনুসারীদের ইজতেমা। ১৯জানুয়ারি আখেরি মোনাজতের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ২০২০ সালের দুই গ্রুপের দুই পর্বের বিশ^ ইজতেমা।

ইজতমো ময়দানরে জম্মিাদার ফকির আতাউর রহমান জানান, আগামী ১০জানুয়ারি শুরু হবে বশ্বি ইজতমোর প্রথম পর্ব এ উপলক্ষে ইজতমোর প্রস্তুতি দ্রুত এগয়িে চলছ।ে এ প্রস্তুতি কাজে সার্বিক সহযোগিতা করে আসছে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এড. জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা প্রশাসক। প্রতি বছরের মতো এবারও আগত মুসল্লরিা জলোওয়ারী খত্তিায় অবস্থান করবে। তবে এবারই বিরতিহীনভাবে তিন দিন করে দুইপর্বে বিশ্ব ইজতেমা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মঞ্চ তৈরি : ইজতেমা উপলক্ষে ময়দানের পশ্চিম পাশে বিদেশী মেহমানদের জন্য তৈরি টিনসেট সংলগ্ন পঁশ্চিম কোনে লোহার পাইপ দিয়ে মঞ্চ তৈরির কাজ চলছে।
এদিকে বিদেশী মেহমানদের জন্য টিন দিয়ে তৈরি তাঁবুতে বিগত বছরে ন্যায় এবারও পাকা টয়লেট তাদের সুবিধার্থে প্রায় তাবুঁগুলো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে আরও আরামদায়ক করে তোলা হবে বলে ইজতেমা প্রস্তুতি কাজে নিয়োজিত জোবায়ের অনুসারি মুরুব্বীরা জানান।

ডাস্টবিন: ইজতেমা চলাকালে ময়দানে আগত মুসল্লি¬দের ফেলানো উচ্ছিষ্ট ফেলার জন্য ময়দানের চারপাশে রিংয়ের তৈরি পোর্টএ্যাবল ডাস্টবিন স্থাপন করা হচ্ছে। যাতে ময়লা আর্বজনা যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলতে পারে। এদিকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এড. জাহাঙ্গীর আলম পুরো ইজতেমা মাঠ জুড়ে মুসল্লীদের সুবিধার্থে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রেখে মশক নিধনের কাজ করে যাচ্ছে এবং ইজতেমার শেষ পর্যন্ত তিনি মশক নিধনের কাজ করে যাবেন।

বিশ্ব ইজতেমা ময়দানের শীর্ষ মুরুব্বি ও সূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেজবাহ উদ্দিন জানান, ময়দানের প্রস্তুতিকাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আশা করি, আগামী ১০ তারিখের আগেই প্রস্তুতিকাজ শেষ হবে। ইনশাআল্লাহ।

স/এষ্

700
Print Friendly, PDF & Email