ঘুরে আসুন সৌন্দের্যের শহর লিসবনের আলমাদায়

এনামুল হক লিসবন পর্তুগাল : সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে জীবন।বিরক্তিকর মনে হচ্ছে কর্মব্যস্ততাকে।মন খারাপ না করে একঘেয়েমি জীবন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ভ্রমনই একমাত্র সমাধান। তাই আমি, আব্দুর রহিম ভাই, আলাউদ্দিন ভাই ও ছোট ভাই মাহাবুবকে নিয়ে বাহির হলাম ভ্রমনের জন্য।আমরা চারজন, মত ভিন্ন, কেহ যাবে কাসকাইস, অন্যজন সিন্ত্রা।

www.linkhaat.com

সময়ের দিক বিবেচনা করে সবাই রওনা হলাম আলমাদার উদ্দেশ্য।পর্তুগালের প্রতিটি শহর বা এলাকা ভ্রমন ও আনন্দ উপভোগের জন্য অতুলনীয়।এখানকার সবুজ প্রকৃতি,উচু নিচু পাহাড় আর নদ-নদী এবং আটলান্টিকের অপার সৌন্দর্য্য ও বৈচিত্র সবাইকে মুগ্ধকরে।

লিসবনের তাগুস নদীর দক্ষিন তীরে আলমাদা।ক্যায়েসসোড্রের লঞ্চ টার্মিনাল-৩ থেকে নদী পার হলেই আলমাদা শহর।আমরা সবাই অপেক্ষা করছি নদী পার হবার জন্য।এখান থেকে কিছুক্ষন পর পর শীপ ছাড়ে।তাই বেশিক্ষন আমাদের অপেক্ষা করতে হয়নি।আমরা যেহেতু প্রথম যাচ্ছি তাই কৌতুহল একটু বেশীই লেগেছিলো। সবাইকে পাস কাটিয়ে দ্বিতীয় তলায় চারটি ভাল সিট দেখে বসে পরলাম।ক্যায়েসসোড্রে থেকে আলমাদা কাসিয়াসের দূরত্ব প্রায় তিন কিলোমিটার।আমরা দশ মিনিটের মধ্যেই পৌছলাম কাসিয়াসে।

আমরা শীপ থেকে নেমে সামনের দিকে হাটতে শুরু করি। কিছুক্ষন হাটার পর দেখতে পেলাম পুরাতন একটি সাবমেরিন। কালো রঙ্গের দীর্ঘ সাবমেরিনটি চারপাশেই তারের বেরা। দূর থেকেই দেখছে সব দর্শনার্থীরা তার মধ্যে অনেকে ব্যস্ত সেলফিতে। সেখানে বেশিক্ষন না থেকে হাটতে শুরু করি ক্রিষ্ট রিও মুর্তি দেখতে। চারদিকের অপরূপ সৌন্দের্যে সবাইকে মুগ্ধ করে। হাটতে হাটতে পৌছেগেলাম আলমাডার ট্যাগাস নদীর পারে ক্রিস্ট রিও মুর্তির কাছে।আমার দেখা যীশু খ্রিষ্টের সবচেয়ে বড় ও সুন্দর মুর্তি।সেখান থেকে অপর পারে ছবির মত সুন্দর লিসবনকে সত্যিই অপূর্ব লাগছিলো।

আমাদের ঠিক অল্প দূরত্বে দেখা যাচ্ছিলো বিখ্যাত ২৪ এপ্রিল ব্রিজ যা লিসবন ও আলমাদাকে যুক্ত করেছে।এই ব্রিজটি নিচের অংশে রেল সেতু এবং উপর দিয়ে সড়ক সেতু তৈরি করা হয়েছে। দেখেতে ঠিক আমেরিকার সান্স ফ্রান্সিসকো ব্রীজের মত এ ব্রীজটিও হতে পারে ভ্রমন পিপাসুদের আরেকটি প্রিয় জায়গা।

ইতিহাসের তথ্য অনুযায়ী আলমাডা অঞ্চলে মানুষের উপস্থিতি প্রায় ৫000 বছর আগে,নওলিথিক যুগের শেষের দিকে।কোন এক সময় সেখানে যাযাবর উপজাতির বসবাস ছিল। তারপর ইসলামী সভ্যতার আগমন হয়।মুসলমানরা ট্যাগাস নদীর প্রবেশ দ্বার সুরক্ষা এবং পর্যবেক্ষণের জন্য আলমাদায় একটি দুর্গ তৈরি করেছিলেন।লিসবন থেকে নদীর ওপারে অলমাডা অঞ্চলটিতে ফিনিশিয়ানস, রোমান এবং মুরসসহ বিভিন্ন মানুষ যারা তাগাসের সাথে ব্যবসা করত।

পর্তুগালকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে প্রবেশ থেকে মুক্তি দেওয়ায় ঈশ্বরের অনুরোধ হিসাবে ১৯৪০ সালের ২০ এপ্রিল ফাতেমায় অনুষ্ঠিত একটি পর্তুগিজ এপিস্কোপেট সম্মেলনে খ্রিস্ট কিং এর কিং স্মৃতিস্তম্ভের অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

ট্যাগাস নদীর সাথে আলমাডা খ্রিস্টের রাজার দৃশ্য মুর্তিটি বিশ্বের শান্তির প্রতীক হিসেবে দাড়িয়ে আছে।এই স্মৃতিস্তম্ভটি সমুদ্রের ১৩৩ মিটার উপরে একটি পৃথক ক্লিফফট উপরে তৈরি।চারটি খিলান এবং একটি সমতল প্ল্যাটফর্ম দ্বারা নির্মিত রিও দে জেনিরোতে খ্রিস্টের রেডিমার মূর্তিটি।রিও খ্রিস্টের মুর্তিটি খ্রিস্টের ক্রস গঠনে তৈরি করা হয়েছে।বিশাল উচ্চাতায় লিসবন শহরের দিকে প্রসারিত বাহু।মনে হয়শহরটিকে সুরক্ষার আলিঙ্গনে দুবাহু দিয়ে জড়িয়ে রেখেছে।

কিভাবে যাবেন: লিসবন ক্যায়েসসোড্রে থেকে নদী পার হয়ে আলমদার কাসিলাস, তারপর 501 নাম্বার বাসে করে ক্রিস্ট রিও মুর্তির সামনে চলে যাওয়া যায় খুব সহজে।চারদিকের সৌন্দর্য্য দেখতে পায়ে হেটে যেতে পারেন সময় লাগবে 30 মিনিটি।

খরচ : আসা ও যাওয়া সব মিলিয়ে 5/6 ইউরো। খাবার খরচ নিজের চাহিদা অনুযায়ী।

700
Print Friendly, PDF & Email