নলছিটিতে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে আসামী

ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির নলছিটিতে দরবার শরীফের আধিপত্য বিস্তারিতকে কেন্দ্র করে মরহুম পীরের পুত্র সজলকে জবাই করে হত্যার ঘটনায় ৬ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল ৫/১২/১৯ তারিখ রাতে নিহত সজলের বড় ভাই স্বেচ্ছা সেবক দল নেতা মাহফুজ দেওয়ান বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

www.linkhaat.com

মামলায় নলছিটির মালিপুর কাদেরিয়া দরবার শরীফের বর্তমান পীর মাও: আনোয়ার হোসেন দেওয়ানের পুত্র একিন দেওয়ানকে ১নং আসামী, পীর আনোয়ার দেওয়ানের দুই ভাই আবুল দেওয়ান ও আরিফ দেওয়ান, ফুফাতো ভাই ওসমান দেওয়ান, ওই দরবারের পাহারাদার ও সব সময়ে অবস্থানকারী মিন্টু ও তৈয়ব আলীকে আসামী করা হয়েছে। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরো ৩/৪জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে মামলার বাদী মাহফুজ দেওয়ান জানিয়েছেন।

বাদী এ প্রতিবেদক কে জানিয়েছেন, তার পিতা মরহুম আমীর হোসেন দেওয়ান ছিলেন ওই দরবারের পীর। তার পিতা মারা যাওয়ার পর থেকে তার তিন চাচা মাও: আনোয়ার হোসেন, আবুল হোসেন ও আরিফ বিল্লাহ দরবারের একচ্ছত্র দখল নিয়েছে। এতে পীর পুত্র হিসেবে আমি ও আমার ভাই প্রতিবাদ করলে আমাদের উপর কয়েকবার হামলা চালায় ও হত্যার চেষ্টা করে। সর্বশেষ গত ৯ নভেম্বর দুপুরে মাহফুজ দেওয়ানকে হত্যার চেষ্টা চালালে গ্রামবাসী ৫ জনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। এরপর তার ছোট ভাই সজল দেওয়ানকে পরিকল্পিতভাবে রাতের আধাঁরে শয়ন কক্ষে জবাই করে হত্যা করে।

অপরদিকে ওই দরবারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে সজল তার চাচা বর্তমান পীর মাও: আনোয়ার হোসেন দেওয়ানকে কুপিয়ে মারাত্নক জখম করে। এতে সজলকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। বেশ কিছুদিন পূর্বে সজল দেওয়ান জামিনে বের হয়।

সজল জবাই করে হত্যার ঘটনায় বিভিন্ন প্রচারণা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলাবলি করছে সজল জবাই হওয়ার আগের দিন নিজ হাতে দাও নিয়ে তাতে ধার(পুকুরের ঘাটলায়) দিয়েছে এবং নিজেই নিজের গলা কেটে আত্নহত্যা করেছে। কেউ বলছে, বিরোধের জের ধরেই তাকে হত্যা করা হয়েছে, আবার কেউ বলছে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ থাকায় তৃতীয় পক্ষও ওই ঘটনা ঘটাতে পারে। তবে সজল যে কক্ষে জবাই করে হত্যা হয় তার সম্মুখে পীর আনোয়ার হোসেন দেওয়ানের বিল্ডিংয়ের সম্মুখে তিনটি সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে। ওই ক্যামেরার ফুটেজ থেকেও হত্যাকান্ডের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।

স/এস।

700
Print Friendly, PDF & Email