পাইকগাছা পৌরসভার বাজার সংলগ্ন স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত

ইমদাদুল হক,পাইকগাছা(খুলনা)।। পাইকগাছা পৌরসভার বাজার সংলগ্ন স্থানে ময়লা আবর্জনার স্তুপে পরিণত হয়েছে। বিষক্ত দুর্গন্ধের কোবলে ব্যবসায়ীরা সহ সর্বস্তরের জনগণ। দক্ষিণে হাওয়া আসলেই নাকে কাপড় দিয়ে পথ চলতে হচ্ছে। পৌর কর্তৃপক্ষ দেখেও না দেখার ভান করছে।

www.linkhaat.com

মনে হচ্ছে, পাইকগাছা পৌরসভা ময়লা আবর্জনার স্তপের নিচে চাপা পড়ে যাচ্ছে। ১৯৯৮ সালের ১লা ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলার একমাত্র পৌরসভা পাইকগাছা পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে ধীরে ধীরে দ্বিতীয় শ্রেণী ও পরবর্তীতে প্রথম শ্রেণীতে স্থান করে নিলেও উন্নয়ন হয়নি পৌরসভার জনগণের মানব উন্নয়নের সেবা। তারই ধারাবাহিকতায় পাইকগাছা পৌরসভার হাট বাজারের দক্ষিণ পার্শ্বে শিবসা নদীর পাড়ে গড়ে তোলা হয়েছে ময়লা আবর্জনার স্তুপ।

এর কোল ঘেষে রয়েছে কাঁচা বাজার, মুদি ব্যবসায়ীরা, মাছ বাজার, মাংস বাজার সহ পাইকগাছার সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। পাশেই রয়েছে পাইকগাছা থানা ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখের বিষয় পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীরা বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে ময়লা আবর্জনা সংগ্রহ করে বাজার সংলগ্ন স্থানে ফেলে বাজারকে দুষিত করে ফেলছে। গরু-ছাগল-এর মল-মুত্র, হাঁস-মুরগীর আবর্জনা, মানুষের মল-মুত্র সহ বিভিন্ন আবর্জনা ভ্যান অথবা ট্রাকে করে বাজার সংলগ্ন স্থানে ফেলে আবর্জনার স্তুপে পরিণত করেছে।

উক্ত স্থান দিয়ে পৌরসভার বরাদ্দকৃত ইটের সলিং রাস্তা থাকলেও তা আবর্জনার নিচে পড়ে গেছে। আবার বাজারের ব্যবসায়ীদের খুলনা থেকে ট্রলারযোগে আমদানী করা সকল মালামাল উক্ত স্থান নিয়ে ওঠা-নামা করা হয়। যে সমস্ত মালামাল ট্রলার থেকে নামিয়ে ময়লা আবর্জনার উপর রাখতে দেখা যায়।

সামান্য বৃষ্টি হলে ময়না-আবর্জনা ধুয়ে দুষিত গন্ধ পানি বাজারের দোকানপাট ও রাস্তায় প্লাবিত হয়। সে সময় ব্যবসায়ীরা সহ বাজারে আসা সর্বসএরর জনগণ রাস্তায় বের হতে পারে না। আবার দক্ষিণা বাতাস এলে বিষক্ত দুর্গন্ধে সাধারণ জনগণ মুখে কাপড় দিয়েও গন্ধ রোধ করতে পারে না। ফলে বিভিন্ন ধরণের রোগ ছড়িয়ে পড়ে।

পৌর কর্তৃপক্ষ অদ্যাবধি পর্যন্ত ময়লা আবর্জনা ফেলার কোন নির্দিষ্ট স্থান তৈরী না করায় অপরিকল্পিতভাবে পৌর সদরকে দুষিত করে ফেলা হচ্ছে। এছাড়া মনে করা হচ্ছে ময়লা আবর্জনা ফেলে শিবসা নদী ভরাট করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আবার ময়লনা আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট কোন স্থান না থাকায় বাজারের কাঁকড়া ব্যবসায়ী, মৎস্য ব্যবসায়ীরা সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ীরা তাদের প্রতিষ্ঠানের মরা কাঁকড়া, পঁচা মাছ সহ বিভিন্ন পচা দ্রব্যাদি এখানেই ফেলছে।

মনে হচ্ছে, ইটের সলিং রাস্তার মত পৌরসভাও একদিন ময়লা আবর্জনার স্তুপের নিচে চাপা পড়ে যাবে। পৌর সদর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বে নিয়োজিত বেতনভূক্ত পরিচ্ছন্নকর্মীরা খামখেয়ালীভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে চলেছে। পৌর কর্তৃপক্ষ সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যথা নেই। কেউ খেয়াল করছেন না পৌরসভা ও সাধারণ মানুষের কথা। জনৈক পরিচ্ছন্নকর্মী জানান, আমরা পৌরসভা থেকে বেতন ভোগ করি।

কর্তৃপক্ষ আমাদের যেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলাতে বলবেন সেখানেই ফেলব। বাজারের পাশে ফেলছি কোনদিন নিষেধ করেনি। জনৈক মাংস ব্যবসায়ী বলেন, সকালে মাংস বিক্রয় করার সময় যে খরিদদাররা আসে তারা নাকে রুমাল অথবা কাপড় বেঁধে এখানে আসে। আমরা তো ব্যবসার স্বার্থে দুর্গন্ধ সহ্য করে নিয়েছি। বাজার ইজারাদারের সাথে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি। পৌর মেয়র সেলিম জাহাঙ্গীর মন্তব্য করতে রাজী হয়নি।

স/এষ্

700
Print Friendly, PDF & Email