কুড়িগ্রামে সফল খামারি হান্নানুর আয় করছেন লাখ লাখ টাকা

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার এক উদ্যমী যুবক হান্নানুর রহমান। পেশায় শিক্ষক হলেও দেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে গরুর খামার করে আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। তার কাজে উৎসাহী হয়ে আত্মকর্মী হয়ে উঠছে আশেপাশের তরুণ যুবকরা।

সে এখন সফল খামারী হিসেবে বেশ পরিচিত। হান্নানুর রহমান উপজেলার রামখানা ইউনিয়নের আস্করনগর মন্ডলেরকুটি গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে। হান্নানুর জানায় মায়ের দেয়া একটি ১টি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন তিনি। ধীরে ধীরে খামারের পরিধি বাড়তে থাকে।

খামার করে লাভবান হওয়ায় আরও বেশি উদ্যমী হয়ে উঠলে প্রসার ঘটতে থাকে খামারের। এখন তার খামারে নেপালী ফিজিশিয়ান, জার্সি, শাহিওয়াল ও ব্রাহামা জাতের গরু রয়েছে। এগুলোর মধ্যে উন্নত জাতের দুগ্ধ গাভী, আড়িয়া ও বকনাসহ সব ধরনের গরু রয়েছে। এই খামার রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচর্যা ও ওষুধপত্রসহ অন্যান্য খরচ বাবদ তার প্রতিমাসে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা।

তার খামার থেকে দুধ উৎপাদন করে খুচরা ও পাইকারী বিক্রি হচ্ছে স্থানীয়সহ বিভিন্ন হাট-বাজারে। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা পাইকাররা তার বাড়িতে এসে দুধ কিনে নিয়ে বিক্রি করেন হাট বাজার ও দূর দূরান্তরে। ফলে স্থানীয় ও আশেপাশের এলাকা গুলোতে পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে এই দুধ যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। তবে দুধের বাজার মন্দা হওয়ায় লাভ কম বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও জানান তার খামার থেকে এবছর আড়িয়াসহ ৭টি গরু বিক্রি করেছেন। তার মধ্যে ১টি গরু বিক্রি করেছেন ২লাখ ৭০ হাজার টাকা। সবমিলে এবছর সব খরচ পুষিয়ে তার লাভ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। খামারে এখনও ১৭টি গরু রয়েছে। তার খামারে কাজ করে প্রতি মাসে ৯ হাজার টাকা আয় করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছে সাইফুর রহমান নামের আরেক যুবক।

আগামী ২০ সালের শুরুতে ব্রাহামা জাতের গরুর ১০টি খামার করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। এজন্য আরও অধিক জনবলের প্রয়োজন বলে মনে করছেন তিনি।

তিনি আরও জানান গরুর খাবারের জন্য ৩ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছেন। পাশাপাশি ২ বিঘা জমিতে নেপিয়ার পাংচক জাতের ঘাস লাগিয়েছেন। তার খামারের গরুর চিকিৎসা সেবার জন্য তিনি উপজেলা প্রাণীসম্পদ অফিসে নিয়মিত ভাবে যোগাযোগ করে থাকেন।

তারাও পরামর্শসহ বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছেন। এছাড়াও জনতা ব্যাংকের রায়গঞ্জ ব্রাঞ্চ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লোন সহযোগিতা পেয়ে তার কাজের গতি বেড়েছে দিগুন এবং তারা আরও সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

তবে আগামীতে সরকারি কিংবা বেসরকারি পৃষ্টপোষকতা পেলে গরুর খামারটি ব্যাাপকভাবে প্রসারিত করে জেলায় শ্রেষ্ট খামার মালিক হওয়ার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. কে.এম ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, হান্নানুর রহমানের গরুর খামারটি বায়োগ্যাস সংযুক্ত একটি আদর্শ খামার। আমরা তাকে সুপরামর্শসহ সকল সহযোগিতা করে আসছি।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email