প্রিয় ইলিয়াস কাঞ্চন ভাই

প্রবাস থেকে- আমরা আপনাকে বাংলার রাজ কুমার বলে চিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের সফল নায়েকদের মধ্যে আপনি অন্যতম। আপনি যেমন চলচ্চিত্রের হিরো ঠিক তেমনি বাস্তব জিবনেও আপনি একজন হিরো।

www.linkhaat.com

চলচ্চিত্রে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে হয়েছে ভিলেনদের সাথে। ঠিক তেমন বাস্তব জিবনে লড়ে যাচ্ছেন হিংস্র পরিবহন শ্রমিকদের সাথে। যারা মানুষকে হত্যা করছে খুব সহজেই। অথচ আইন তাদের কিছুই করতে পারছেনা। এখন ওরা আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে,তাই আপনার বিরুদ্ধে কথা বলছে।

আপনাকে নিয়ে পোষ্টার ও ব্যানারে ব্যাঙ্গ করছে। ওরা সংখ্যায় খুবই কম। বাংলার কোটি জনগন আপনার পাশে আছে,আপনাকে ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। এটাই প্রকৃত সত্য।

‍কিছু হিংস্র পরিবহন শ্রমিকের জন্য আপনার কষ্ট বৃথা যাবেনা। আপনার নিরাপদ আন্দোলনের পাশে আমরা একাত্বতা পোষন করছি। প্রবাস থেকে যখন দেখি ওরা আপনার ছবিতে জুতার মালা দিয়ে উল্লাস করছে তখন নিজেকে খুব অপরাধী মনে হয়। ওরা আপনার ছবিতে জুতার মালা দেয় নি, জুতার মালা দিয়েছে বাংলার কোটি জনতার গলায়।

স্বজন হারানোর কি ব্যাথা তা আপনি জানেন। ১৯৯৩ সালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এলোমেলো হয়ে গিয়েছিলো আপনার পরিবার। তারপর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন আর সিনেমা করবেন না।বাস্তব জীবনে লড়বেন সেই থেকে প্রতিবাদী নায়ক হয়ে দাঁড়িয়ে যান রাস্তায়।গড়ে তোলেন “নিরাপদ সড়ক চাই-নিসচা”।

নানা প্রতিকূলতা, চাপ, হুমকি কোন কিছুর পরোয়া করেননি। লড়ে যাচ্ছেন বীরের মত। আপনার আন্দোলনের সাথে যোগ হয় ছাত্রদের আন্দলোন। যে আন্দোলনটি ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে। এখন বাংলাদেশের প্রত্যেক মানুষের দাবি নিরাপদ সড়ক চাই। বাংলার প্রত্যেক মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার যে আইন করেছে তার পক্ষে একটি ফেইস বুক স্ট্যাটাসে আপনি লিখেছিলেন –

আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, সড়ক পরিবহন আইনটি করা হয়েছে সড়কের শৃঙ্খলা ফেরানোর জন্য, সড়কে দুর্ঘটনা কমানোর জন্য। জেল বা জরিমানা আদায়ের জন্য নয়। কাউকে শাস্তি দেবার উদ্দেশ্যে নয়। যদি আপনারা এই আইন সঠিকভাবে মেনে চলেন তাহলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। আর যদি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরেই আসে তাহলে আইনে জরিমানার ভয় কিসের?

আপনি অপরাধ করলেন আপনার জেল জরিমানা হবে। আপনি যদি অপরাধ না করেন তাহলে কেন আপনার জেল জরিমানা হবে? আমি বুঝতে পারছিনা নিজেদের সংশোধন না করে, সঠিক লাইসেন্স না নিয়ে, দক্ষতা অর্জন না করে, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ফিটনেস না নিয়ে উল্টো জেল-জরিমানার কথা বলে জনগণকে জিম্মি করে কেন অরাজক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হচ্ছে?

অথচ একটু ধৈর্য্য ধরে আইনের ভেতরে গিয়ে পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে এই আইনটিতে কাউকে এককভাবে দায়ী বা টার্গেট করা হয়নি। বিশেষ করে চালকশ্রেনীকে নয়। বরং তাদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি, কর্মঘন্টা নির্ধারণ, নিয়োগপত্রসহ গাড়ি চালনায় সঠিক পরিবেশ তৈরির কথাও রয়েছে। তবুও কেন এই বিরোধিতা, কেন এই আইনকে মেনে না নিতে পারার মানসিকতা?
ইলিয়াস কাঞ্চন

চেয়ারম্যান,নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)
আমিও আপনার প্রত্যেকটি কথার সাথে একমত। পরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরাতে এই আইনটি সঠিক ভাবে প্রয়োগ করা উচিত। এখন প্রত্যেকটি নাগরিকের উচিত কাঞ্চন ভাইয়ের পাশে থেকে তাকে সাহায্যে করা। যদি শ্রমিক পরিবহনের আন্দোলনের মূখে সরকার তার আইন পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়। তাহলে আমরা যে দুর্ঘটনামুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছি তা হয়তো আর বাস্তবায়ন হবেনা। পূর্বে যা ছিলো অর্থাৎ সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিল আর অসহায় পরিবারের কান্না চলতেই থাকবে।

পরিশেষে বলছি বর্তমান আইনটি যেন সরকার পরিবহন শ্রমিকদের অযৌক্তিক দাবীর কাছে হার না মানে। এটাই প্রত্যেক প্রবাসী ও বাংলাদেশের জনগনের প্রাণের দাবী।

মো: এনামুল হক (প্রবাসী)
লিসবন,পর্তুগাল

700
Print Friendly, PDF & Email