স্বপ্ন পূরণে অদ্যম্য প্রচেষ্টা মানিকের পা দিয়ে লিখে জেএসসিতে অংশগ্রহণ

হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: মানিক রহমান। চলতি জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা দিচ্ছে সে। সুস্থ ও স্বাভাবিক শিক্ষার্থীরা হাত দিয়ে লিখলেও সে পরীক্ষার খাতায় লিখছে ব্যাতিক্রমভাবেই। শারীরিক প্রতিবন্ধী সে।

দু’হাতই নেই তার। হাত না থাকলেও সে অবিরাম লিখে চলে পা দিয়ে। হাতের লেখাও অন্য শিক্ষার্থীদের থেকে কম সুন্দর নয়। মানিক রহমান কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় জসিমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারের চলতি জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে সে। বাবা মায়ের দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে মানিক রহমান। জন্মের পর থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। জীবনের সাথে যুদ্ধ করেই কণ্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে বড় হয়ে উঠেছে সে।

কিন্তু তার ইচ্ছাশক্তি এবং স্বপ্ন তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাফল্যের শীর্ষ চূড়ায়। দু’হাত না থাকলেও লেখাপড়ায় কখনও পিছিয়ে পড়েনি এই লড়াকু সৈনিক। স্বপ্নের সারথি হয়েই সে এগিয়ে চলছে নিজের মতো করে। আর দশজনের মতো করেই বাঁচতে চায় সমাজে। আত্মনির্ভরশীল হয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করে দেশ সেবায় অংশ নিতে চায় সেও।

তারই ধারাবহিকতায় এবার ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়-ফুলবাড়ী (কুড়ি)-৬৬৮ কেন্দ্রের ৬ নম্বর কক্ষে চৌকিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে সে। বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিতে অশুবিধে হওয়ায় তার জন্য চৌকির ব্যবস্থা করেছেন কেন্দ্র কৃর্তপক্ষ। চৌকিতে বসেই পা দিয়ে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে ঝকঝকে লেখায় খাতার পাতায় বিরামহীনভাবে লিখে যাচ্ছে প্রশ্নত্তর।

তার পরিবার জানায়, মানিক শুধু পা দিয়ে লিখে জেএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে তা নয়, পা দিয়েই মোবাইল কানে নিয়ে কথা বলে এবং ল্যাপটপও চালাতে পারে অন্যদের মতোই। সে ২০১৬ সালে জছিমিঞা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে এ প্লাসসহ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে।

মানিক প্রতিবন্ধী হলেও সেটা কখনও মনে করেন না তার পরিবার। ছোটবেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছেন তারা। বিশেষ করে মা মরিয়ম বেগম বন্ধুর মতো করেই তার পাশে থেকে উৎসাহ অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন তাকে।

বাবা মিজানুর রহমান জানায়, তার ছেলে পিএসসিতে এলাকার সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে-মেয়েদের চেয়েও ভালো রেজাল্ট করেছে। এছাড়াও ছেলেটা যাতে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে প্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে সুস্থ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকতে পারে সেজন্য সবার দোয়া কামনাও করেন তিনি।

ফুলবাড়ী উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিব কানাই লাল সেন জানান, মানিক রহমান প্রতিবন্ধী হয়েও অন্য শিক্ষার্থীদের মতোই প্রতিটি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করছে। এজন্য তাকে দেয়া হয়েছে বাড়তি ৩০ মিনিটসহ সকল প্রকার সুযোগ-সুবিধা।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email