চেয়ারম্যানের চেয়ার

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ স্বামী এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু ছাত্রজীবনেই জড়িয়ে পড়েন সক্রিয় রাজনীতিতে। কাজ করেন ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাড়াতেন সবসময়। তাই তরুণ বয়সেই জনগনের ভোটে নির্বাচিত হন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে।

তারপর রাজনীতিতে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি হল কয়েক বছরে। মানুষের কল্যাণে কাজ করায় জেলাজুড়ে প্রভাশালী নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

১৯৯২ সাল থেকে টানা ৮বছর চেয়ারম্যান ছিলেন। চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সাফল্যর সাথে পালন করায় ইউনিয়নবাসীর মধ্য মনি হন তিনি। বলছিলাম কুষ্টিয়ার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর কথা। চেয়ারম্যান থাকাবস্তায় ২০০০ সালের ১৪ জুলাই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যাকারীরা এখনো পুলিশের ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

তার সুদক্ষ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, কুটকৌশল এবং তৃণমূলের জনপ্রিয়তাই তাকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল। দলমত নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসতেন। মানুষের কাছে যেতেন। বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাড়াতেন। এলাকার মানুষও আপন মানুষ ভেবে চেয়ারম্যানের উপরেই আস্থা রাখতেন। চেয়ারম্যানের মৃত্যুর পর এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর বড়ভাই চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চুর ইউনিয়ন এলাকায় তৃণমূলের জনপ্রিয়তার কারণে ২০১৬সালে ব্যাপক ভোর্টে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন তার সহধর্মীনি এম সম্পা মাহামুদ। চেয়ারম্যানের চেয়ার স্বামীর উত্তরাধিকার হিসেবে ধরে রেখেছেন তার স্ত্রী এম সম্পা মাহামুদ।

স্বামীর সুদক্ষ নেতৃত্ব খুঁজে পেয়েছে এলাকার মানুষ তার স্ত্রীর মধ্যে। এ কারণে এম সম্পা মাহামুদ স্বামীর চেয়ার শক্তভাবে ধরে রেখেছেন। সামনে দিনেও এ চেয়ারের মান রাখতে চান তিনি।

এভাবেই অকপটে কথা বলছিলেন হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহামুদ তিনি বলেন, এই যে ইউনিয়ন এলাকায় যত উন্নয়ন স্থাপনা দেখছেন সব কিছুই একটু একটু করে আমার স্বামী এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু ও তার বড়ভাই এবং আমার হাতে গড়া। এরইমধ্যে ইউনিয়ন এলাকার রাস্তা টেকসই করে দৃষ্টিনন্দন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। ইউনিয়ন এলাকায় যা আজ দেখা যাচ্ছে সবই আজ দির্শমান।

মানুষের পাশে থাকি বলেই আজ আমি চেয়ারম্যান। ইউনিয়ন এলাকার মানুষ আমাকে মধ্য মনি করে রেখেছে। এলাকায় মাদক, ইভটিজিং, বাল্য বির্বাহ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপোসহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে সফল হয়েছি। সবসময় মানুষের জন্য কাজ করছি।

বরাবরের মতো আমি অপরাধ দমনে দৃঢ় থাকবো। হাটশ হরিপুর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে সবাইকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। করে যাবো রোববার দুপুরে হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে এ প্রত্যয়ের কথা চমক নিউজ ডটকমকে জানালেন এম সম্পা মাহামুদ। এলাকার মানুষের ভালোবাসায় এখন তিনি চেয়ারম্যানের চেয়ার হিসেবে পরিচিত।

শুধু ইউনিয়ন নয়, জেলাজুড়ে পরিচিতি রয়েছে তার। এখন তিনি কুষ্টিয়া জেলা যুব মহিলা লীগের আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলীয় সাংগঠনিক কর্মকান্ড শক্তিশালী করতেও সুদক্ষ নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি।

হাটশ হরিপুর ইউনিয়নবাসী বলছেন, চেয়ারম্যান এম সম্পা মাহামুদের স্বামী এম মাহমুদ হোসেন সাচ্চু ইউনিয়নবাসীর কল্যাণে কাজ করতেন।

বিপদে আপদে মানুষের পাশে দাড়াতেন। এখন তার সহধর্মীনি এম সম্পা মাহামুদ সবসময় আমাদের পাশে থাকেন। ইউনিয়নবাসীর ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করছেন তিনি। তার নানা মুখি কর্মকান্ড সত্যি প্রশংসিত। তার কর্মকান্ডে অন্তন্ত খুশি ইউনিয়নবাসী। সামনের দিনেও এ চেয়ারে তাকেই দেখতে চান তারা।

এম সম্পা মাহামুদ বলেন, আমার বাবা রহমতুল্লাহ বিশ্বাস ছিলেন ভেড়ামারা উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বড়ভাই বিএম সেকেন্ডার ছিলেন,ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদ সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন, রাজনৈতিক পরিবারের মেয়ে আমি। বিয়ে হয় হাটশ হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সাথে।

স্বামীর দেখানো পথ আর নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে সব বাধা জয় করে চলছি। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়নবাসীর ভোটের চিন্তা কখনোই তাকে দ্বিধায় ফেলেনি। তিনি বলেন,দায়িত্ব পালনে সবসময় সহযোগীতা করে চলেছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য মাহবুব-উল-আলম হানিফ এমপি এবং সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতা। আমি অপরাধ দমনে দৃঢ় থাকবো।

এক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিংবা ব্যাক্তির পরিচয় মুখ্য নয়। এই ইউনিয়নকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email