বদলগাছীতে প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি

খালিদ হোসেন মিলু বদলগাছী(,নওগাঁ) প্রতিনিধি : নওগাঁর বদলগাছীতে প্যানেল চেয়ারম্যানের কাছে চেক এ সাক্ষর দেওয়ার নামে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা অভিযোগ উঠেছে মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগমের বিরুদ্ধে।

জানাযায়,গত ৪ই নভেম্বর বেলা ১১টায় কোলা ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউ পি সদস্যদের নিয়ে চেয়ারম্যানের কক্ষে এক আলোচনা সভা চলছিল।

আলোচনা সভা চলাকালীন সময়ে কোলা ইউপির ১,২,৩নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম চেক হোল্ডার ইউনিয়ন পরিষদের যৌথ চেক এ সাক্ষর করার নামে ৫০হাজার টাকা প্যানেল চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম স্বপনের কাছে চাঁদা দাবি করে এমন টায় জানিয়েছেন ঐ ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান।

এবিষয়ে কোলার ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান স্বপনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম আমার কাছে চেক এ সাক্ষর করার নামে ৫০হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে, আমি টাকা না দিলে সে চেক এ সাক্ষর করবেনা। পরে ইউপি সদস্যরা তাকে বিষয়টি ভাল ভাবে বুঝালে সে চেক এ সাক্ষর করে।

এছাড়াও প্যানেল চেয়ারম্যান বলেন ইউ পি সচিব চেক প্রস্তুত করার পর চেক আমাকে দেয় এর পর সে সাক্ষর করেছে।

কোলা ইউপির মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম ইতি মধ্যেই আমার নামে বিভিন্ন যায়গায় কুৎসা রটনা করছে,অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমি নাকি ২৬টি ফাঁকা চেক তার কাছে সাক্ষর নিয়েছি এ বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট আর সাজানো নাটক ছাড়া কিছুই না।আমার বিরুদ্ধে কোলা ইউপির একটি কুচক্রী মহলের গুটি কয়েক ব্যাক্তির ষড়যন্ত্রের নীল নকশা হিসেবে ঐ মহিলা মেম্বার কে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর জন্যে লেলিয়ে দিয়েছে।

ঐ কুচক্রী মহলের লোকজন ইতি পূর্বে আমার কাছে ১,৫০০০০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছিল আমি তাদের টাকা না দেওয়ার কারনে এই মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম কে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করছে আর খুব শীঘ্রই তাদের মুখশ আমি জনগনের কাছে তুলে ধরবো।

ইতিপূর্বেই মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম বিভিন্ন সময়ে আমার কাছে অসচ্ছলতার দায় দিয়ে টাকা নিয়েছে আমি সেটা আমার ব্যাক্তিগত তহবিল থেকে তাকে সাধ্যমত সাহায্যে সহযোগিতা করেছি।

এ বিষয়ে কোলা ইউপির মেম্বার হারুনুর রশিদ হারুন,রায়হানুল ইসলাম,অমর ফারুক,জাহাঙ্গীর আলম,সিরাজুল,ফাতেমা বেগম, একাধিক মেম্বার এর সাথে কথা বললে তারা জানান,মহিলা মেম্বার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এর কাছে ৫০হাজার টাকা দাবি করে, প্যানেল চেয়ারম্যান তাকে টাকা দিতে পারবেনা সাব জানিয়ে দেন, মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগমের জোরাজোরিতে অবশেষে স্বপন ব্যাক্তিগত ভাবে ২থেকে ৩হাজার টাকা সহয়াতা দিতে পারে এমন কথা শুনে ঐ মহিলা মেম্বার বলে আমি ফকিন্নি নাকি ২/৩ হাজার টাকা সাহায্য আমাকে নিতে হবে বলে চলে যায়।

এবিষয়ে কোলা ইউপির ১,২,৩নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার নাছিমা বেগম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান মিটিং হলে আমাকে জানায়না, আর আমি কোন কাজের সভাপতি সেটাও আমি জানিনা।

আমার কাছে শুধু চেক সাক্ষর করে নেয়। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শাহিনুর,সচিব আন্জুয়ারা,ও আমি নাছিমা বেগম যৌথ চেক হোল্ডার।গত ৪ই নভেম্বরে ইউনিয়ন পরিষদ এ মিটিং চলছিল আমাকে এ চেকে সাক্ষর করতে বলে, আমি না সাক্ষর করতে চাইলে আমার কাছে জোর পূর্বক সাক্ষর করতে বাধ্য করে সচিব ও চেয়ারম্যান।

চেক এ কোন চেক হোল্ডার সাক্ষর করলে কি ব্যাক্তিগত ভাবে টাকা পাওয়া যায়,এমন প্রশ্ন করলে মহিলা মেম্বার নাছিমা বলেন আমার জানামতে আমি যখন বেতন এর জন্য সাক্ষর করি তখন বেতন পাই আবার সম্মানী ভাতা বাদে ও অনেক সময় চেক এ সাক্ষার করলে পূর্বের চেয়ারম্যান ২০ হাজার করে টাকা দিত কিন্তু বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান টাকা দেয়না।

মহিলা মেম্বার আরও বলেন ঈদের সময় বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ১০হাজার টাকা আমাকে দিয়েছেন, এছাড়া বিভিন্ন সময়ে ২ হাজার থেকে ৫ হাজার প্রর্যন্ত বেশ কয়েক বার টাকা দিয়েছে।

ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কাজের টাকা কেন আপনাকে নিতে হবে, এমন কোন নিয়ম আছে কি প্রশ্ন করলে ঐ মহিলা মেম্বার বলেন আমার এ বিষয়ে জানানাই।

২৬টি চেক এ আমাকে বাধ্য করে সাক্ষর করে নেওয়ার জন্য আমি ইউ এন ও বরাবর অভিযোগ করেছি।
একটি চেক বই এ ১০টি পাতা থাকে তাহলে ২৬টি চেক এ কেমনে সাক্ষর করলেন গণমাধ্যম কর্মীর এমন কথা বললে মহিলা মেম্বার বলেন বিভিন্ন সময়ে নিয়েছে।

আপনি তো চেক হোল্ডার নিয়ম অনুযায়ী আপনার একটা সাক্ষর ঐ যৌথ চেক এ লাগবে তা সাক্ষর করতে কেন দ্বিমত পোষণ করছেন এমন প্রশ্ন করলে ঐ মহিলা মেম্বার বলে অনেক কাহিনী আছে তাই।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email