বাঘারপাড়ায় যৌতুকের দাবীতে দুই সন্তানের জননীকে নির্যাতনের অভিযোগ

সাঈদ ইবনে হানিফ : যশোরের বাঘারপাড়ায় স্বামীর চাহিদামত যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় দীর্ঘ বছর সংসার করার পরও দুই সন্তান সহ স্বামীর ভিটে ছাড়তে হলো এক স্ত্রীকে।

www.linkhaat.com

অনেক চেষ্টার পরও স্বামীর সংসারে টিকতে না পেরে অবশেষে আদালতে সরনাপন্ন হয়েছেন তিনি। ঘটনা উপজেলা বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের।

মামলার বিবরণে জানা যায়, বিগত ২০০২ সালের দিকে উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের শহিদুল মোল্যার পুত্র মিলন হোসেনের সাথে পার্শ্ববর্তী সদর উপজেলার ঘুনী গ্রামের মৃত জিতে খার কন্যা ঝর্ণা খাতুন (২৮) এর ৯ হাজার এক টাকা কাবিনে বিবাহ হয়। বিবাহের কয়েক মাস পর থেকে মিলন হোসেন তাকে যৌতুকের জন্য বিভিন্ন ভাবে চাপ দিতে থাকে।

স্বামীর সংসারের কথা চিন্তা করে ক্ষনে ক্ষনে পিতার বাড়ি থেকে ৪০ হাজার টাকা এনে দেয় বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করেন ঝর্ণা খাতুন। এরই মধ্যে তাদের দাম্পত্য জীবনে রফিকুল ও ঐশি নামে দুইটি সন্তানের জন্ম হয়। এরপর স্বামী মিলন হোসেন আরো যৌতুক এনে দেওয়ার জন্য টালবাহানা ও নির্যাতন করতে থাকে।

যে কারণে তিনি পিতার বাড়ি চলে যান। সেখানে দীর্ঘদিন অবস্থান করার সুযোগে তার স্বামী মিলন হোসেন দ্বিতীয় বিবাহ করে।

ঝর্ণা খাতুনকে স্বামীর সংসারে ফিরতে এখন ৩ লক্ষ টাকা দিতে হবে। স্বামীর বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ এনে গত ০১-০৯-২০১৯ইং তারিখে যশোর বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে নারী ও যৌতুক নিরোধ আইনের ৩ ধারায় মামলা দায়ের করেছে স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন। যার নং সিআর ২২৮/১৯।

কিন্তু এতসব অভিযোগ অস্বীকার করে মিলন হোসেন বলেন তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর করা সকল অভিযোগ মিথ্যা। বিয়ের পর থেকেই স্ত্রী ঝর্ণা খাতুন তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী, হেনস্থা, অর্থদন্ড ও মানষিক নির্যাতন করে আসছে। তার বেপরোয়া চলাফেরা অশোভন আচারণ দিনের পর দিন বেড়েই চলে।

মাঝে মধ্যে বাড়ি থেকে সে হারিয়ে যেতো। আবার ১৫ দিন ১ মাস পর ফিরে আসতো। মিলন হোসেন বলেন ১১ বছর সংসার জীবনে সে ৬ থেকে ৭ বার বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। প্রতি বারই সে আমার জমানো টাকা পয়সা ও মূল্যবান জিনিস পত্র নিয়ে গেছে।

সন্তানদের কথা চিন্তা করে একাধিকবার আমি তাকে ঢাকা, খুলনা ও নারিকেল বাড়িয়া থেকে উদ্ধার করে এনেছি। তার কর্মকান্ড সম্পর্কে এলাকার সমাজপতিরা ভাল ভাবেই অবগত আছেন। ২০১৩ সালে ঝর্ণা খাতুন স্বামী সন্তান ফেলে পালিয়েছে। এতোদিন পর সে ফিরে এসে আমার বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করলো। আমিও ন্যায় বিচার চাই।

স/এষ্

700
Print Friendly, PDF & Email