কখনো জাতীয় টিমের খেলোয়াড় কখনো এএসপি! অবশেষে আটক সেই সাকিব

সিলেট প্রতিনিধি : সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার রাউতখাই গ্রামে যুক্তরাজ্য প্রবাসী কামাল মিয়ার বাড়ি থেকে এক ভুয়া এএসপিকে আটক করা হয়েছে। গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় তাকে আটক করা হয়। আটক আবু বকর সাকিব ওরফে নাজমুস সাকিব (২৮) চাঁদপুর জেলার দাসপাড়ার আবুল হোসাইন ঢালীর ছেলে।

পুলিশ জানায়, নাজমুস সাকিব এএসপি পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। বিষয়টি নজরে আসে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের। সেখান থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান ওসমানীনগরে সনাক্ত করা হয়। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজমুস সাকিব নিজেকে ৩৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ পুলিশ ক্যাডার হিসেবে দাবি করেন। কিন্তু তার কথাবার্তায় অসঙ্গতি থাকায় ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর তিনি নিজেকে ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকার করেন।

এর আগে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাই নিউজ পোর্টালের বিভিন্ন ক্রীড়া সাংবাদিকে নাজমুল নিজেকে অনুর্ধ-১৯ টিমের খেলোয়াড় হিসাবে পরিচয় দিতেন। মাঝে কিছুদিন একটি পত্রিকায় সাংবাদিকতাও চেষ্টা করেছেন। নিজের ফেসবুককে কিছুদিন আগে নিজেকে ৩৭ তম বিসিএস ক্যাডার হিসাবে প্রচার করে।

ঢাকা থেকে বিমানে সিলেট যাবার সময়ও নিজের ছবি গণমাধ্যমে ছাড়তে দেখে দেখে এই প্রতারককে। জাতীয় ক্রিকেট টিমে জার্সি গায়েও তার একাধিক ছবি নিজের ফেসকুকে রয়েছে। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকটে বিশ্বকাপে লন্ডনে খেলা দেখতে যাবার কথা বলেও অনেকে সাথে করেছেন প্রতারণা।

আনিছুর রহমান আরো জানান, নাজমুস সাকিবের কাছ থেকে পুলিশের লোগো সম্বলিত একটি ওয়ালেট, এক জোড়া স্বর্ণের দোল, এক জোড়া হাতের বালা, নগদ টাকা, বিভিন্ন অপারেটরের ৪টি সিমকার্ড, দুটি এটিএম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে ছবি তুলে নিজের ফেসবুক আইডিতে পোস্ট করতেন নাজমুস সাকিব। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস স্থাপনের অপচেষ্টা চালান তিনি।

আমাদের ওসমানীনগর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, নাজমুস সাকিবের বিরুদ্ধে ওসমানীনগর থানার এসআই সুজিত কুমার চক্রবর্তী বাদী হয়ে একটি এবং প্রবাসী কামাল মিয়া বাদী হয়ে আরেকটি মামলা দায়ের করেছেন।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email