লাগামহীন প্রতারণার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি!

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতিবন্ধী স্কুলের অনুমোদন দেয়ার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে রাণ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাসচিব গাউসুল আজম (শিমু) চক্র!

বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারত্বের হার দিনের পর দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় একশ্রেণির অসাধু চক্র বেকার যুবকদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে নিঃস্ব করার খেলায় লিপ্ত রয়েছে!

বর্তমানে একটি চাকরি পাওয়া বেকার যুবকদের কাছে সোনার হরিণ ধরার মতো। এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে রাণ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি নামক মরণফাঁদ চক্রটি!

সারাদেশের বেকার যুবক, যুবতীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে রাণ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির গাউসুল আজম (শিমু) চক্রটি প্রতিবন্ধী স্কুল অনুমোদন দেবার কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে বোকার যুবকদের পথে বসানোর উপক্রম করেছে!

রাণ ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি প্রতারক চক্রটির মুলহোতা গাউসুল আজম ২০১৫ সালের দিকে জয়েন্ট স্টক থেকে রেজিষ্ট্রেশন নং-১২৭৩০ নিয়ে সারাদেশের আনাচে কানাচে প্রতিবন্ধী স্কুল খুলে দেবে এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে একমাত্র তারাই স্কুল করার অনুমোদন পেয়েছে এই মর্মে চক্রটি সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারীকৃত বিশেষ শিক্ষানীতিমালা-২০০৯ এবং তাদের মনগড়া কিছু ফর্মমেট তৈরি করে সারা বাংলায় সফর করে প্রতিটি এলাকায় একাধিক দালালের মাধ্যমে প্রতারক চক্রটি তাঁদের মিষ্টি কথার ফাঁদে ফেলে বেকার যুবক/যুবতীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে!

এই দালালদের মাধ্যমেই চক্রটি প্রতিটি প্রতিবন্ধী স্কুল অনুমোদন করানোর কথা বলে ২৫-৩০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে! এই চৌকস প্রতারক চক্রটির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেনা বেকার যুবক/যুবতী থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজের শিক্ষক এমনকী সমাজের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা! এদের ফাঁদে যারা পড়েছে তাদের সর্বস্ব হারিয়ে অনেকেই আজ পথে বসতে চলেছে!

এ চক্রটি স্কুলের পাঠদানের অনুমোদন দেয় তাঁদের তৈরীকৃত নিজস্ব প্যাডে। যা মন্ত্রনালয় বা প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশনের চোখে ধুলো দিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে প্রতারণা এবং সরকারের সঙ্গেও প্রতারণা, জালিয়াতি করে সরকারের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে! পাঠদান অনুমোদন বাবদ ৫০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। এবং রেজিঃ বাবদ ৫০হাজার-১লক্ষটাকা নিচ্ছে।

সারাদেশে এদের সঙ্গে মফস্বলের কিছু অসাধু চক্রের যোগসাজশে ব্যাঙের ছাতার মত স্কুল তৈরী করে দিয়ে গ্রামের অসহায় বেকার যুবক/যুবতীদের নিকট থেকে ৫লক্ষ-৮লক্ষ টাকা নিচ্ছে মফস্বলের ঐ অসাধু চক্রটি।

এক একটি প্রতিবন্ধী স্কুলে ২০-২৫টি পদের বিপরীতে পত্রিকায় ব্যাকডেটে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জনপ্রতি পদের বিপরীতে ৫-৮লক্ষ টাকা নিচ্ছে শর্তসাপেক্ষে।

গাউসুল আযম আজম চক্রটি গ্রামের স্কুল করার উদ্যোক্তাকে বুঝায় যে আপনি কোটি টাকা আয় করে আমাকে দিবেন ২৫-৩০লক্ষ টাকা কোন সমস্যা আছে? মাঝখান দিয়ে আপনি (যিনি উদ্যোগক্তা) ৭০-৮০লক্ষ টাকা বাণিজ্য করবেন।

এ ভাবে রাণ ডেভেলপমেন্ট চক্রটি সমগ্র দেশ থেকে দুইশতাধিক স্কুল করে প্রায় ত্রিশ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

প্রতারকচক্রের ফাঁদে পা দিয়ে অসংখ্য প্রতিবন্ধী স্কুল উদ্যোক্তা ২ বছরেও একটি স্কুলের অনুমোদন পাননি। ভুক্তভোগীদের অনেকেই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

প্রতারক চক্রের প্রাথমিক পরিচয়:

১) মুলহোতা- রান ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির মহাসচিব- গাউসুল আজম (শিমু)।
২) রহিমা খাতুন (চেয়ারম্যান)
৩)আব্দুর রহমান।
৪)জাহাঙ্গীর চাকলাদার, (রহিমা খাতুনের স্বামী ও মাদ্রাসা ও কারিগরী শিক্ষাবোর্ডের কর্মচারী)
৫)রেজাউল করিম (রেজা)।
মোহাম্মদপুর টাউন হলের পাশেই মদীনা ভিলা নামক ২য় তলাতে অফিস ভাড়া নিয়ে উপরোক্ত ব্যক্তিদের দ্বারাই অপকর্ম, প্রতারণা, জালিয়াতি সংগঠিত হয়।

জেলা পর্যায়ে যারা মফস্বলে রানের হয়ে সাধারণ মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা করে রাণকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতে সহযোগী দালাল হিসেবে কাজ করে–
১) মিজানুর রহমান (মিন্টু) পিতাঃ মৃত নিছার আলী গ্রাম-হাজরাকাটি। মনিরামপুর, যশোর।
২) জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ) ঝিনাইদহ।
৩)মিলন ফকির, জামালপুর।
৪)ইলিয়াস শাহী, ময়মনসিংহ।
৫)ওয়াজেদুর রহমান (ওয়াজেদ), সিরাজগঞ্জ।

স/এষ্

Print Friendly, PDF & Email