অবসরে যাচ্ছেন হেভিওয়েট নেতারা

নিউজ ডেস্ক :– আগামী কাউন্সিলের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট অনেক নেতা অবসরে যেতে পারেন। তবে যারা আওয়ামী লীগ ছাড়বেন না বা সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করবেন না কিন্তু তারা আওয়ামী লীগের কোন দায়িত্বশীল পদে থাকবেন না।

বরং তারা একজন আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকবেন, একরকম অবসরে চলে যাবেন। এরকম অবসর ভাবনা আওয়ামী লীগের অনেক হেভিওয়েট নেতাই প্রকাশ্যে তাঁদের নেতাকর্মীদের কাছে বলছেন।

একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে যে, আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, মতিয়া চৌধুরীসহ একাধিক সিনিয়র নেতার মধ্যে অবসর ভাবনা চলে এসেছে।

তারা বলছেন যে, এই কাউন্সিলের পর তারা উপদেষ্টামণ্ডলী বা অন্যকোনো কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে থাকতে চান না। বরং তারা আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে বাকী জীবন কাটিয়ে দিতে চান।

এই সমস্ত নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও অংশগ্রহণ না করার ব্যাপারে তাঁদের কর্মীদের কাছে ইঙ্গিত করেছেন বলে একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এই অবসরের কারণ কি অভিমান নাকি বার্ধ্যক্যজনিত সে বিষয়ে পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সিনিয়র নেতাদের ঘনিষ্ঠরা বলছেন যে, দলে অপাংক্তেয় হয়ে পরা বা তাঁদের মূল্যায়ন না হওয়ার কারণেই একরকম তারা অভিমান করে অন্যকনো পদ গ্রহণে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন।

বরং তারা বাকী জীবন একজন সাধারণ কর্মী হিসেবে কাটিয়ে চলে যেতে চান। আবার অন্য একটি সূত্র বলছে, আওয়ামী লীগে এখন নতুনদের জয়জয়কার চলছে।

এরকম বাস্তবতায় দলে তাঁদের জায়গা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আওয়ামী লীগে নীরবে একটি পরিবর্তনের প্রক্রিয়া চলছে, যে পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় নতুনদেরকে জায়গা দিতে হচ্ছে। অবসর গ্রহণে প্রত্যাশী এরকম একজন নেতা একান্ত আলাপচারিতায় বলেছেন যে, নতুনদেরকে জায়গা করে দিতে হবে।

দীর্ঘদিন রাজনীতি করেছি। আর কত? এখন আমাদের চলে যাওয়ার সময় হয়েছে। আমরা এখন অবসরে যাবো।

শুধুমাত্র এইসব হেভিওয়েট নেতাই নয়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করা, বর্তমানে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন- এরকম কয়েকজনও উপদেষ্টামণ্ডলী বা অন্যকোনো পদে থাকতে চান না।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে বলেছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখন নিজেই অবসরের কথা বলছেন। তিনি এবারের পর আর প্রধানমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করবেন না বলেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের সভাপতির পদ ছাড়ার ব্যাপারে তিনি অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও এ ব্যাপারে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি। তাছাড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার এই অবসরগ্রহণের সিদ্ধান্তের যে বিপুল প্রতিবাদ করবে তা বলাই বাহুল্য।

উল্লেখ্য যে, ২০০৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা কোণঠাসা হতে শুরু করেন। ২০০৯ সালের যে মন্তিসভা গঠিত হয়েছিল, সেই মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতাকর্মীদের সাইডলাইনে বসিয়ে রাখা হয়েছিল।

যদিও ২০১৪ সালে তোফায়েল আহমেদ, আমীর হোসেন আমু মতো সিনিয়র নেতাদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল, কিন্তু ২০১৮ এর ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর এ বছরের ৭ জানুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় আবার সিনিয়র নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

শুধুমাত্র এসকল সিনিয়র নেতা নয়, ইমাজউদ্দিন প্রামাণিক, শামসুর রহমান শরীফ ডিলুসহ আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক মন্ত্রী এবং এমপি আস্তে আস্তে রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছে।

এটার প্রথম কারণ হলো বয়সজনিত। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলেছেন, নতুনদের জায়গা ছেড়ে দেওয়ার জন্যই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই অবসরের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে যারা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে রাজনীতি করেছেন, তারা মুজিববর্ষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তারপর একরকম অবসর জীবনযাপন করবেন।

আওয়ামী লীগের একজন নেতা জানিয়েছেন, পৃথিবীর সব দেশেই রাজনীতি থেকে অবসরের নিয়ম রয়েছে। আমাদের দেশে আমৃত্যু রাজনীতির যে চল চালু আছে সেটা পরিবর্তন হওয়া দরকার। কারণ নতুন নেতৃত্বকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য পুরনোদের সরে যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: বাংলা ইনসাইডার

Print Friendly, PDF & Email