ঢাকাবুধবার , ২৭ জুলাই ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দ্যা ও মোবাইল উদ্ধার, ইমন হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রাসু সহ গ্রেফতার -২

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুলাই ২৭, ২০২২ ৯:০০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত দ্যা ও মোবাইল উদ্ধার, ইমন হত্যাকান্ডের মূল পরিকল্পনাকারী রাসু সহ গ্রেফতার -২

এস.এম.মনির হোসেন জীবন : ঢাকা জেলার সাভার থানার আমিনবাজার এলাকায় তুরাগ নদী থেকে ইমন রহমানের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল পরিকল্পনাকারী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু সহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু (২২) ও তার সহযোগি বিপুল চন্দ্র বর্মন (১৯)। এসময় হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত একটি দ্যা এবং একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আরও দু’ আসামী এখনও পলাতক রয়েছে। তাদেরকে ধরতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে।

আজ সকালে র‌্যাব-১ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া অফিসার) এএসপি নোমান আহমদ এসব তথ্য জানান।

এদিকে, রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টার আজ বুধবার দুপুর সাড়ে ১২ টায় এক সংবাদ সম্মলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার (অধিনায়ক) লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন।

তিনি জানান, আজ ভোর রাত সাড়ে ৪ টায় টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আবাদপুর গ্রাম এবং গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কালামপুর এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে র‌্যাব।

সংবাদ সম্মলনে লেফটেনেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন জানান, গত ১৬ জুলাই ২০২২ ( শনিবার) বিকেলে ঢাকা জেলার সাভারস্থ আমিন বাজার কেবলার চর এলাকার তুরাগ নদীতে একটি লাশ ভাসমান অবস্থায় নৌ-পুলিশ উদ্ধার করে। এই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সাথে প্রচারিত হয়।

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৭ জুলাই ২০২২ তারিখ আনুমানিক রাত ৯ টার দিকে ভিকটিম ইমন রহমান (২১), পিতা-আজিবর রহমান সাং-রসুলপুর, থানা-কালিয়াকৈর, জেলা-গাজীপুর রাতের খাবার খেয়ে তার মা মাজেদা বেগমের কাছ থেকে ২শ টাকা নিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে বাসা হতে বের হয়ে যায়। রাতে ইমনের বাসায় ফিরতে দেরি হওয়ার কারণে পরিবারের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ৫ দিন ভিকটিম এর পরিবার সম্ভাব্য সকল স্থানে খোঁজাখুজি করে ইমনের কোন সন্ধান না পেয়ে কালিয়াকৈর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরী করেন। যার নম্বর-৪৯৯ তারিখ ১১/০৭/২০২২। এ ঘটনার পর গত ১৬ জুলাই ২০২২ সন্ধা ৬ টার দিকে ঢাকার সাভারস্থ আমিন বাজার কেবলার চর এলাকার তুরাগ নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা নৌ-পুলিশকে খবর দেয়। পরবর্তীতে উদ্ধারকৃত লাশটি কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ভিকটিম ইমন রহমান (২১) এর বলে সনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত মরদেহ সম্পূর্ণ পচে যাওয়ায় এটি হত্যাকান্ড কিংবা দুর্ঘটনা কিনা তা তাৎক্ষণিকভাবে অনুমান করা সম্ভব ছিল না। তবে, ভিকটিমের পরিবার ভিকটিমের মৃতদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকান্ড বলে দাবি করেন।

আব্দুল্লাহ আল মোমেন বলেন, আজ বুধবার ভোর সাড়ে ৪ টায় র‌্যাব-১, গাজীপুর ক্যাম্পের একটি দল র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহায়তায় তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার থানার আবাদপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে আত্মগোপনে থাকা এই হত্যাকান্ডের পরিকল্পনাকারী গাজীপুরের মো, সিদ্দিকুর রহমানের পুত্র রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু (২২)কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে তার স্বীকারোক্তি মতে এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত অপর ৪ সহযোগীর মধ্যে অন্যতম সহযোগী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার কালামপুর এলাকার রতন চন্দ্র বর্মনের পুত্র বিপুল চন্দ্র বর্মন (১৯)কে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-১ এর কমান্ডিং অফিসার জানান, এ সময় আসামী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসুর নিজ বাড়ির শয়ন কক্ষের বিছানার নিচ থেকে উক্ত হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ১ টি দা এবং ধৃত আসামী বিপুল চন্দ্র বর্মন এর নিকট থেকে ১ টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ভিকটিম ইমন’কে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এই চাঞ্চল্যকর হত্যার লোমহর্ষক বর্ণনা দেন।

সংবাদ সম্মলনে র‌্যাব জানান, আসামী রাশেদুল ইসলাম রাসু (২২) এবং বিপুল চন্দ্র বর্মন(১৯)’কে জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরো স্বীকার করে যে, ভিকটিমসহ তারা সকলে একই স্কুলে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়াশুনা করত এবং বিগত ৫/৭ বছর যাবত তারা পরস্পরের সাথে পরিচিত। এছাড়াও তারা গত ২/৩ বছর পূর্ব থেকে একই সাথে মাদক ক্রয় এবং সেবনের সাথে জড়িত। তারা বন্ধু হলেও ভিকটিম ইমনের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পূর্ব হতেই বিরোধ ছিল।

র‌্যাব আরও জানান, সম্প্রতি প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ভিকটিম ইমন এর সাথে আটককৃত রাশেদুল ইসলাম রাসু এর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তিব্রতা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেলে রাশেদুল ইসলাম রাসু তার অপর ৪ জন সহযোগীসহ ভিকটিম ইমনকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশেদুল ইসলাম রাসু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গত ৭ জুলাই ২০২২ রাত ৯ টার দিকে ভিকটিম ইমন‘কে তার বাড়ীর পশ্চিম পাশে বটগাছতলায় আসতে বলে। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে রাসু, বিপুলসহ অন্যান্য হত্যাকারীরা আগে থেকেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে থাকে।

এরপর রাত সাড়ে ৯ টার সময় ভিকটিম ইমন গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর থানার রসুলপুর বটগাছতলায় পৌঁছামাত্রই আসামী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু ভিকটিম ইমনকে তার প্রেমিকাকে গালিগালাজ করার কারন জিজ্ঞাসা করে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ১০ টায় প্রধান আসামী রাশেদুল ইসলাম ওরফে রাসু’র সাথে থাকা দ্যা দিয়ে ভিকটিম ইমন’কে কোপ দেয় এবং অন্যান্য আসামীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে ভিকটিম ইমন’কে এলোপাতাড়িভাবে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে ভিকটিম ইমন নিস্তেজ হয়ে গেলে হত্যাকারীরা ইমনের লাশ যাতে কেউ খুঁজে না পায় সে উদ্দেশ্যে তুরাগ নদীতে ভাসিয়ে দেয়। পরবর্তীতে তুরাগ নদীতে স্রোতের কারণে লাশ সাভারের আমিন বাজারে গিয়ে ভেসে উঠে।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান র‌্যাবের এ কর্মকর্তা।

স/এষ্