ঢাকাসোমবার , ১৫ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্তরসূরি সংগঠন শিবিরের অধিকাংশ কর্মী বুয়েট-মেডিকেলে পড়ে

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
আগস্ট ১৫, ২০২২ ১:৪১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্তরসূরি সংগঠন শিবিরের অধিকাংশ কর্মী বুয়েট-মেডিকেলে পড়ে

বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধীদের উত্তরসূরিদের সংগঠন শিবিরের অধিকাংশ কর্মী বুয়েট – মেডিকেলে পড়ে; এমনকি ওদের অনেক নিবেদিত প্রাণ কর্মী স্পাই হিসেবে আওয়ামী লীগেও আছে, অথচ তারা অন্তত ১৭ বছর যাবত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ধারেকাছে নাই।

তাদের এই সাংগঠনিক সক্ষমতা থেকে অন্যদের শেখার আছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও ওদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অটুট আছে। ওদের নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে, কোচিং সেন্টার আছে; ওরা ওদের কর্মীদের ক্লাস ৮ থেকে গাইডলাইন, আশ্রয়, অর্থ দিয়ে ভার্সিটি পর্যন্ত নিয়ে যায়, প্রয়োজনে উচ্চ শিক্ষার জন্য নিজেদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বিদেশে পাঠায়, সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে বিসিএস ক্যাডার পর্যন্ত বানায় (সাস্টের রসায়ন বিভাগ থেকে ওদের এক নেতা গত বিসিএস-এ ক্যাডার হয়েছে)। সরকারি চাকরি না পেলে ওদের কর্মীদেরকে ইবনে সিনা হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকরির ব্যবস্থা করে। ওরা নিজেদের অর্থে ওদের কর্মীদের পরিবারের চিকিৎসা পর্যন্ত করে।

আর ছাত্রলীগের একজন কর্মী পড়াশোনা করলে, বাকী নয়জন কর্মী তাকে নিয়ে টিজ করে। ছাত্রলীগের একজন কর্মী চাকরি পেলে, বাকী ছাব্বিশজন কর্মী তার চাকরি খাওয়ার চেষ্টা করে। ছাত্রলীগের একজন সাবেক কর্মী দূরাবস্থায় থাকলে বাকী দশজন সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী খুশিতে গদগদ হয়।

আমি আমার নিজের ভার্সিটিতে দেখেছি ১৫০ জন শিবির কর্মীকে পরাস্ত করার জন্য ৬০০ ছাত্রলীগ কর্মীকে পুলিশ-র‍্যাবের সহায়তা নিতে হয়েছে। আমার নিজের পর্যবেক্ষণে মনে হয়েছে নিজ সংগঠনের প্রতি একজন শিবিরের নিবেদন একশো জনের সমান। কিন্তু নিজ সংগঠনের প্রতি একশ ছাত্রলীগ কর্মীর মধ্যে সর্বোচ্চ দশ জন কর্মীর নিবেদন প্রশ্নাতীত।

আমার মতে, শিবির তাদের অধম আদর্শ উত্তমভাবে লালন করে, যাকে আমরা ব্রেইন ওয়াশ বলি; কিন্তু ছাত্রলীগের অধিকাংশই পালের অংশ, যাদের অধিকাংশ উত্তম আওয়ামী আদর্শ ও মূল্যবোধ সম্পর্কে কিছুই জানেনা।

ক্ষমতাসীন দল কখনই তাদের সংগঠন গোছাতে পারে না। ১৯৫০ থেকে ১৯৭০ এই বিশ বছর ক্ষমতার বাইরে ছিল বলেই আওয়ামী লীগ দেশসেরা ছাত্রলীগ তৈরি করতে পেরেছিল; যে ছাত্রলীগ পরবর্তীতে একটা স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দিয়েছে।টানা দীর্ঘসময় ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল; ১০ বছর ধরে ক্ষমতা কাঠামোর বাইরে থাকা সোহেল তাজের দারস্থ হওয়া যার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে যাওয়া মানে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ ও ধর্মনিরপেক্ষতার মূলনীতিতে গড়ে উঠা বাংলাদেশের ভিত্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া। সময়ের সাথে সাথে আওয়ামী লীগের এই চারটি মূল্যবোধ যত দুর্বল হয়েছে, বাংলাদেশের মৌলিক কাঠামো ততো নড়বড়ে হয়েছে!

ভাবা যায় যে, আপনি এমন এক বাংলাদেশের নাগরিক, যে বাংলাদেশ তারেক -নূর – বিদিশা- সাঈদীরা শাসন করছে! ভাবতেই গা শিহরিত হয়, ঘেন্না করে। তারচেয়ে বরং জয়-তাজের নেতৃত্বে নতুন আওয়ামী লীগকে স্বাগত জানান। আওয়ামী লীগকে ঘষেমেজে পরিস্কারের দাবি জানান, আওয়ামী লীগ পরিস্কার থাকলেই বাংলাদেশ পরিস্কার থাকবে।

ওহ হে, আওয়ামী লীগ মানেই শেখ পরিবার নয়। আওয়ামী লীগ মানেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নয়। ভালো করে পড়াশোনা করলে জানবেন যে, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠায় শেখ পরিবারের বাহিরের মানুষদের অবদান সবচেয়ে বেশি; কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী আদর্শকে যতটুকু ধরে রেখেছিলেন, অনেকেই ততোটা ঢিল দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ হচ্ছে- একটা আদর্শ ও মূল্যবোধের সমন্বয়; যার মূলনীতির উপর ভিত্তি করে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

                লেখকঃ মাজহারুল হক পিটুল

           ( সাবেক শিক্ষার্থী অর্থনীতি বিভাগ )

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট।

স/বি