ঢাকাশনিবার , ৩০ জুলাই ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

সিরাজদিখানে দুর্ঘটনার শঙ্কার মধ্যেই রেলিং বিহীন ব্রিজ দিয়ে চলছে যান

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুলাই ৩০, ২০২২ ৭:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

সিরাজদিখানে দুর্ঘটনার শঙ্কার মধ্যেই রেলিং বিহীন ব্রিজ দিয়ে চলছে যান

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর হতে মধ্যপাড়া ইউনিয়নে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটিতে থাকা রেলিং বিহীন ব্রিজটি পারাপারে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা।

তারা জানান, প্রায় ২৫ বছর পূর্বে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। সংস্কার অভাবে ব্রিজের দুই পাশের রেলিংগুলো ধসে পড়ে গেছে। ব্রিজের দুই পাশে রেলিং না থাকার কারণে ব্রিজটিতে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে চলাচলে যেকোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

চালকরা একটু বেখালি হলে কিংবা দুইটি গাড়ী একই সময়ে ব্রিজটিতে ওভারটেক করার সময় দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে ব্রিজটি দিয়ে এভাবেই চলছে যানবাহন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটিতে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এতে করে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। দ্রুত ব্রিজটি সংস্কার না করলে মানুষের ভোগান্তি আরো দীর্ঘায়িত হবে। কিন্তু ব্রিজটি সংস্কারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণ করছেনা বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
জানাগেছে, মালখানগর ইউনিয়নের বটতলা হতে মধ্যপাড়া ইউনিয়নের মালপদিয়া হয়ে বকুলতলা পর্যন্ত রাস্তাটির দৈর্ঘ প্রায় ৫ কিলোমিটার।

গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে দুইটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। পাশাপাশি একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি কলেজের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত রাস্তায় যাতায়াত করেন। হাটবাজার কিংবা জরুরি প্রয়োজনে দ্ইুটি ইউনিয়নের মানুষ মালখানগর চৌরাস্তা হয়ে সড়কটি দিয়ে চলাচল করে।

এছাড়াও সিরাজদিখান উপজেলা কিংবা জেলা সদর মুন্সীগঞ্জ যাতায়াতেও রাস্তাটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মালপদিয়া খাঁনবাড়ী পশ্চিম পাশে থাকা রেলিং বিহীন ব্রিজ ও প্রায় দেড় কিলোমিটার খানাখন্দে ভরা সড়কটি এখন হাজারো মানুষের ভোগান্তির অন্যতম কারন। ব্রিজটির দুই পাশের এ্যাপ্রোচ সড়ক অন্যান্ত ঢালু ।

কিন্তু ব্রিজটির রেলিংগুলো সংস্কার খড়ে খসে পড়ে গেছে। রেলিংগুলোর রডগুলোও উধাও হয়ে গেছে। অন্যদিকে ব্রিজটি পাড়ি দেয়ার পর বকুলতলা যাতায়াতের রাস্তাটিতেও ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ২বছর ধরে রাস্তাটি মানুষ ভোগান্তি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

সংস্কার অভাবে রাস্তাটি দিন দিন আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ঝাঁকুনি খেয়ে বিভিন্ন যানবাহন যাত্রী নিয়ে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, খানবাড়ী এলাকায় ব্রিজটির অবস্থান। ব্রিজটির দুই পাশের সবগুলো রেলিং উধাও হয়ে গেছে। ব্রিজটিতে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়াতে ব্রিজের দুইপাশের এ্যাপ্রোচ সড়কে গাড়ীগুলো অপেক্ষা করে একটি একটি করে গাড়ী ব্রিজটি পাড়ি দিচ্ছেন।

অনেকটা ঝুঁকি নিয়েই ব্রিজটিতে অটো- মিশুকসহ অন্যান্য যানবাহনগুলো চলাচল করছে। গাড়ী চালকরা একতটু বেÑ খেয়ালি হলেই দুর্ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও ব্রিজের দুই পাশের এ্যাপ্রোচ সড়কে প্রতিরক্ষামূলক কোন পিলার নেই। অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার দেখা গেছে ব্রিজের এ্যাপ্রোচ সড়কে।

পথচারি রোমান মিয়া জানান, ব্রিজটির রেলিংগুলো সংস্কার অভাবে খসে পড়ে নিশ্চিন্ন হয়ে গেছে। ব্রিজটি এখন রেলিং বিহীন ব্রিজে পরিনত হয়েছে। ব্রিজের উপর গাড়ী উঠলে আতঙ্কে থাকতে হয়। পাশাপাশি দুইটা গাড়ী পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ী খালে পড়ে যেতে পারে।

ব্রিজটির এ্যাপ্রোচ সড়কগুলোও ঢালু এবং বিপদজনক। তিনি আরো বলেন, আস্তে আস্তে ব্রিজটির সবগুলো রেলিং বিলীন হয়ে গেলো কিন্তু ব্রিজটি সংস্কারে কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। দুর্ঘটনা রোধে ব্রিজটি ভেঙে এখানে নতুন ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

অটো চালক মো. শাহ আলম জানান, ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে ব্রিজটি পাড়ি দিতে হচ্ছে। একই সঙ্গে দুইটি গাড়ী ব্রিজটিতে ওভারেটেক করা বিপদজনক। এছাড়াও ব্রিজটিতে রেলিং না থাকার কারণে যেকোন সময় যাত্রীবাহী গাড়ীগুলো দুর্ঘনার কবলে পড়তে পারে।

অন্যদিকে মালখানগর বকুতলতলা যাতায়াতের সড়কটিতে থাকা খানাখন্দের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, ব্রিজটি বহু বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজটি দিয়ে চলাচল বিপদনজক জেনেও চলাচল করতে হচ্ছে।

সিরাজদিখান উপজেলার এলজিইডির উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. খায়রুল বাসার বলেন, এখানে নতুন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট আসলে এখানে নতুন করে ব্রিজ নির্মাণ করা হবে। তিনি আরো বলেন, ওই সড়কটির যেসব স্থানে খানাখন্দ রয়েছে সেগুলো আগামী অর্থ বছরের বাজেটে সংস্কার করে দেয়া হবে।

স/এষ্