ঢাকারবিবার , ৩১ জুলাই ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

রাজা ছাড়া অসহায় মা, স্ত্রী ও সন্তান

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুলাই ৩১, ২০২২ ৬:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজা ছাড়া অসহায় মা, স্ত্রী ও সন্তান

শেখ রাজীব হাসান, গাজীপুর: গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে মোঃ হাবিবুল্লাহ রাজা (২৪) নামে এক যুবককে মোবাইলে ফোন দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে একদল সন্ত্রাসী। গত ২৯শে জুলাই শুক্রবার সকাল ৯ ঘটিকার সময় টঙ্গী পূর্ব থানাধীন নিমতলী রেল লাইন সংলগ্ন এলাকা থেকে রাজার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজা হত্যাকান্ডের ঘটনা হাবিবুর রহমান শাওন বাবু ওরফে ভাণ্ডারী বাবু নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। বাবু একই এলাকার বাসিন্দা এবং টঙ্গী পূর্ব থানার শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে।

নিহত হাবিবুল্লাহ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৫৫ নং ওয়ার্ডের (হোল্ডিং-১৪৩/৫) মাছিমপুর চেয়ারম্যান বাড়ী রোড এলাকার মৃত সৈয়দ মোশারফ হোসেন ও মোছাম্মত সাদিয়া বেগমের একমাত্র সন্তান। রাজা তিস্তার গেইট কোকলা কোম্পানীতে দীর্ঘদিন সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পারাবারিক নিয়মরীতি মেনে প্রায় ১বছর ২মাস আগে ময়মনসিংহ জেলার গফরগাওয়ের যাত্রাশিবধি গ্রামের কামাল মিয়ার মেয়ে মোছাম্মত নুরুন নাহার এর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের ৯ নয় মাস পর রাজা কন্যা সন্তানের বাবা হন। সখ করে মেয়ের নাম রাখেন হাবিবা, বয়স সবে ৫ মাস। সব কিছু সুন্দর ভাবে চলছিলো।

রাজা হত্যার বিষয়ে স্ত্রী নুরুন্নাহার জানায়, গত বৃহস্পতিবার সন্ধার পর আমার স্বামী রাজা বাসায় ভাত খাওয়ার সময় হঠাত তার মোবাইলে একটা ফোন আসলো। জিজ্ঞেস করে বুঝতে পারলাম বাবু ফোন দিয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে রাজা বাসা থেকে বের হয়ে বাবুর সাথে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আমি রাজার নাম্বারে ফোন দিলে রাজা জানায় আমি পাশে আছি ৫মিনিটের মধ্যে বাসায় চলে আসবো। প্রায় আধা ঘন্টা পার হওয়ার পরেও রাজা বাসায় না আসাতে আমি পুনরায় রাজার নাম্বারে ফোন দিলে অন্য একজন ফোন রিসিভ করে বলে রাজা নাকি মোবাইল চুরি করছে ও স্টেশনে আছে অপর দিক থেকে আমার স্বামীর চিৎকার শুনে আমার ৫ মাসের শিশু বাচ্চাকে খালি বাসায় রেখে দ্রুত দৌড়ে স্টেশন রোড বাস স্ট্যন্ডের পশ্চিম পাশে পুলিশ বক্সের কাছে অনেক লোকজন দেখে গিয়ে দেখি আমার স্বামীর হাত, পা বাঁধা জীব বের হয়ে আছে।

শরীর তকে রক্ত পরতাছে ও বলতেছে একটু পানি দিতে সন্ত্রাসীরা ওকে পানি দিতে দিল না আমি আশপাশের মানুষ ও ট্রাফিক পুলিশদের সহযোগিতা চেয়েছি তারা হাসতেছিলো আর ফোনে ভিডিও করতাছিলো। ওরা বলছে রাজা মোবাইল নিছে মোবাইল দিতে আমি রাজাকে জিজ্ঞেস করেছি রাজা বলেছে ও মোবাইল সমন্ধে জানে না ভান্ডারি বাবু জানে। আমি রাজার মোবাইলে আসা বাবুর নাম্বারে ফোন দিলে বাবু রিসিভ করে বলে আমি কোন মোবাইল সমন্ধে জানি না আর রাজা কে চিনি না বলে ফোন কেটে দেয়।

আমি ওদের বলেছি আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা দেও আমার গলার সোনার চেইন নাও রাজাকে ছেড়ে দাও। ওরা আমার কাছ থেকে ১০,০০০ (দশ হাজার) টাকা চাইছে আমি বলেছি ১০ মিনিট সময় দেন আমার শাশুড়িকে ফোন দিয়া টাকা আনাইয়া দেই ওরে মাইরেন না কিন্তু ওরা রাজাকে হেছরাইয়া অটো রিকশায় করে আব্দুল্লাহপুরের দিকে নিয়া যাইতে চাইলে আমি আমার শাশুড়িকে ফোন দিয়ে আসতে বলে জোর করেই অটো রিকসাতে উঠি।

রাস্তায় অনেক জেম ছিলো আমি কান্নাকাটি করায় ওরা ফায়ার সার্ভিসের সামনে আমাকে নামিয়ে দেয় তখন রাত আনুমানিক রাত সাড়ে এগারটা আমার শাশুরি খুজতে খুজতে যখন ফায়ার সার্ভিসের কাছে আসে তখন সর্বশেষ রাজা মা বলে চিৎকার করে। রাজার শব্দ শুনে আমার শাশুরি অটো থেকে লাফ দিয়ে নামতে গিয়ে হাটুতে আঘাত পায় আমি উনাকে তুলতে তুলতে সন্ত্রাসীরা ওখান থেকে চলে যায় পরে সারারাত আর খোজাখুজি করে রাজাকে পাই নাই।

তবে তারা ০১৩১৭৭৩৮৭৩৩ নাম্বার থেকে আমাকে বিকাশে টাকা পাঠাতে বলেছিল আমরা ফোন দিলে ওই নাম্বার বন্ধ করে দেয়। পরে সকালে ৮টায় পূর্ব থানা থেকে ফোন দিয়ে থানায় যেতে বলে সেখানে গিয়ে আমার স্বামীর লাশ দেখতে পাই।

এবিষয়ে টঙ্গী স্টেশনরোড পুলিশ বক্সের সাথে থাকা চায়ের দোকানি তালেব বলেন, আমি দোকানে ছিলাম হঠাত করে দেখতে পাই বক্সের পাশে অনেক লোকজন ওখানে ৭-৮ জন মিলে একটা ছেলেকে ইট ও কাঠ দিয়ে পিটাইতেছে আর বলতেছে মোবাইল চুরি করেছে। কিন্তু যাকে মারতেছিল তার কাছ থেকে কোন চুরির মোবাইল পায়নি। আর যাকে মারতেছিলো সে বলছিলো সে মোবাইল নেয় নাই। কিছুক্ষণ পর তার স্ত্রী এসে বলেছে আমি টাকা দিবো আমার স্বামীর প্রাণ ভিক্ষা দেন। আমার স্বামীকে একটু পানি দেন কিন্তু যারা মারধর করছিলো তারা কিছুই শুনে নাই পরে চলে গেছেন। এরপর আমি আর জানি না।

সরেজমিনে রাজার এলাকার স্থানীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রাজা খুবই সহজ সরল ছেলে ছিলো। যে কেউ কোন কাজের কথা বললে সে সরল মনে কাজ করে দিত। এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হেলেনা খানম বলেন রাজার জন্ম হয়েছে আমাদের বাড়িতে কয়েক বছর আগে ওরা নিজেরা বাড়ি করেছে ওদের পরিবারের সাথে আমদের নিয়মিত যোগাযোগ হয়। রাজা খুব ভালো ছেলে। এচ্ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী জানায়, রাজার দ্বারা কখনো কোন খারাপ কাজ সম্ভব না। আমরা ওকে খুব ভালো জানি ও স্নেহ করি। এছাড়া স্থানয় এলাকাবাসী রাজা হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, মোবাইল সংশ্লিষ্ট ঘটনায় পিটিয়ে হত্যা করে তাকে রেললাইনের পাশে ফেলে রেখে গেছে। মামলার সুষ্ঠ তদন্তের স্বার্থে থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ রাজা হত্যা কান্ডের বিষয় নিয়ে মাঠে কাজ করছে। এবিষয়ে রাজার স্ত্রী একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এঘটনায় হাবিবুর রহমান বাবু ওরফে ভাণ্ডারী বাবু নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

স/এষ্