ঢাকাশুক্রবার , ২৯ জুলাই ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে শ্রেনী কক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুলাই ২৯, ২০২২ ১০:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে শ্রেনী কক্ষ সংকটে গাদাগাদি করে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নানা সংকটের মধ্যে পাঠদান চলছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীরা আরো জানান, বিদ্যালয়টির জরাজীর্ণ ভবনে রয়েছে ভবনে ২টি শ্রেনী কক্ষ। সেখানে গাদাগাদি করে ক্লাস করছেন শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়টির পুরাতন ভবনের দেয়াল ও ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ছে। বিদ্যালয়টিতে নেই কোন বাউন্ডারি ওয়াল। বিদ্যালয়ের সামনে পর্যাপ্ত পরিমান জায়গা রয়েছে। এখানে যদি নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হতো তাহলে শিক্ষার্থীদের শ্রেনী সংকট সমস্যা কেটে যেতো বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

স্থানীয়রা জানান, মেঘনা তীরবর্তী চর আব্দুল্লাহ গ্রামের ভিতরে বিদ্যালয়টির অবস্থান । বর্তমানে যে ভবনটিতে শিক্ষার্থীদেরকে পাঠদান দেয়া হচ্ছে সেই ভবনটি ২ কক্ষ বিশিষ্ট। জরাজীর্ণ ভবনটির দেয়াল ও ছাদের আস্তর খসে খসে পড়ে। দপ্তরি না থাকার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ করছেন। ক্লাস রুম সংকটে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

এখানে নতুন ভবন হওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সেই খবনটিও নির্মাণ করা হচ্ছেনা। বিদ্যালয়টিতে যাতায়াত ব্যবস্থাও নাজুক। কাঁচা মাটির সড়কে পায়ে হেঁটে শিক্ষার্থীরা স্কুলটিতে যাতায়াত করেন। এছাড়াও গ্রামটিতে যান চলাচলের উপযোগী সড়ক না থাকায় সারাবছর মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করেন।

শিক্ষকরাও মুন্সীগঞ্জ শহর থেকে চিতলিয়াবাজার হয়ে নদী পাড়ি প্রায় ২ কিলোমিটার কাঁচা মাটির সড়ক পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করেন। বিদ্যালয়টির শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ণে এখানে একটি ভবন নির্মাণ ও গ্রামের অভ্যন্তরিন সড়কগুলো পাকা করে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা খুবই প্রয়োজন।

জানাগেছে, ১৯৮৩ সালে স্কুলটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টিতে চর আব্দুল্লাহ ও এর আশপাশ এলাকার শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করেন। স্কুলটিতে প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেনি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাঠদান দেয়া হচ্ছে। ৪জন শিক্ষক এখন বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানে দায়িত্ব পালন করছেন। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে সর্বমোট শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ১১৪জন।

বিদ্যালয়টিতে প্রধান শিক্ষকের পদটি শুন্য রয়েছে। বর্তমানে একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়টিতে দায়িত্ব পালন করছেন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম চলছে একতলা বিশিষ্ট জরাজীর্ণএকটি ভবনে। সেখানে তিনটি রুমের মধ্যে একটিতে অফিস কক্ষ ও দুইটি রুমে শ্রেনী কক্ষ। সেখানে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছেন। ভবনের ছাড় ও দেয়াল থেকে রঙ ও আস্তর খসে খসে পড়ে শ্রেনী কক্ষ নোংরা হচ্ছে। বিদ্যালয়টির সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত অবস্থা।

বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানান, বিদ্যালয়টি একতলা বিশিষ্ট আর দুইটা শ্রেনী কক্ষে তাদেরকে গাদাগাদি করে ক্লাস করতে হচ্ছে। দিনভর ছাদের আস্তর ও দেয়ালের রঙ – আস্তর খসে খসে পড়ে শরীর নোংরা হচ্ছে। ফ্যানের বাতাসে ধুলোবালি উঁড়ে চোখে লাগছে।

বিদ্যালয়টিতে নানামুখী সংকটের কারনে দিন দিন শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, বিদ্যালয়ে নতুন ভবনটি নির্মাণ করে শ্রেণি কক্ষ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি খেলার মাঠ, দপ্তরি নিয়োগ ও যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানান শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদ্যালয়টিতে শ্রেনী কক্ষ সংকটের মধ্যে চলছে নিয়মিত পাঠদান । বর্তমানে যে ভবনটিতে পাঠদান চলছে সেখানে দুইটা শ্রেণি কক্ষ । বিদ্যালয়টির নিজস্ব জায়গা পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। সেখানে নতুন করে একটি ভবন নির্মাণ করা খুবই প্রয়োজন রয়েছে বলেও জানিয়েছেন বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোছা. নাছিমা খানম বলেন, বিদ্যালয়টিতে শহীদ মিনার স্থাপন ও ওয়াশব্লক নির্মাণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টিতে থাকা বহু সমস্যার সমাধান করেছি। এছাড়াও যেসব সমস্যা রয়েছে এগুলোও দ্রুত সমাধানের প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্