ঢাকারবিবার , ৩১ জুলাই ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে নির্জন সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল-রাতে পথচারিরা থাকেন আতঙ্কে

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুলাই ৩১, ২০২২ ১২:০৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে নির্জন সড়কে পায়ে হেঁটে চলাচল-রাতে পথচারিরা থাকেন আতঙ্কে

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সুখবাসপুর মাষ্টারবাড়ী জামে মসজিদ হতে পশ্চিম দিকে হাওলাদারবাড়ী হয়ে পানহাটা পর্যন্ত সড়কটিতে হাজারো মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, সুখবাসপুর এলাকার মানুষের যাতায়াতের জন্য প্রায় ৩ বছর পূর্বে হাওলাদারবাড়ী পর্যন্ত একটি কাঁচা মাটির রাস্তা তৈরি করা হয়। কিন্তু আজও পর্যন্ত রাস্তাটি যান চলাচলের উপযোগী করা হয়নি। এতে করে হাজারো মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসীদের সুবিধার্থে কাঁচা মাটির রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু রাস্তাটি যান চলাচলে উপযোগী না হওয়াতে পায়ে হেঁটেই মানুষ রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁচা মাটির সড়কটিতে কোন যানবাহন চলাচল না করায় পুরো রাস্তাটি এখন জঙ্গলে পরিনত হয়েছে।

কাঁচা মাটির সড়কটির উপর ঘাস, লতাপাতা আর বিভিন্ন ধরনের উদ্বিদ জন্ম দিয়েছে। গাছগুলো বড় হওয়ার পাশাপাশি রাস্তার দু”পাশে থাকা ঘাস আর লতাপাতা সড়কটিতে পরিত্যক্ত জঙ্গলে পরিনত করেছেন। রাস্তাটিতে মানুষের পায়ে হেঁটে চলার প্রায় ১ ফুটের চিহ্ন বহন করে আছে ।

বৃষ্টি আর বর্ষার সময়ে সাপ, ব্যঙ, কেঁচো, লাল পিপড়া, বিভিন্ন ধরনের পোঁকা মাড়ক, বিচ্ছার উপদ্রব বেড়ে যায় সড়কটিতে। এছাড়া দিনের বেলা রাস্তাটিতে হেঁটে চলার যতোটো বিপদ জনক, রাতে তার চেয়ে কয়েকগুন বেশি বিপদজনক। রাতের বেলা ঘাসের উপর দিয়ে রাস্তাটি দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময়ে সাপ, বিচ্ছুসহ অন্যন্য বিষাক্ত প্রাণীর কবলে পড়তে হয় পথচারিদেরকে। রাস্তাটিতে নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। সুনসান নীরব রাস্তাটি দিয়ে চলাচলে নারীরা বেশি আতঙ্কে থাকেন।

জানাগেছে, সুখবাসপুর গ্রামের মানুষ যাতে সুখবাসপুর জামে মসজিদের সামনে দিয়ে টঙ্ড়ীবাড়ী হাতিমারা সড়ক দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য মাষ্টারবাড়ী মজজিদের পশ্চিম পাশে থাকা খালের তীর পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকা না করায় যেমন যান চলাচল করতে পারছেনা।

তেমনি খালের উপর ব্রিজ না থাকায় সুখবাসপুর সড়কেও গাড়ীতে যাতায়াত করতে পারছেনা গ্রামবাসীরা। অন্যদিকে পানহাটা হতে হাশকিরা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তা ও পানহাটা হতে আটপাড়া পর্যন্ত রাস্তাটিও সংস্কার অভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাস্তাগুলো সংস্কার না করায় এলাকার লোকজন উত্তর, দক্ষিন ও পশ্চিম যেদিকেই যাচ্ছে। যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পূর্বদিকে মাষ্টারবাড়ী পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তাটির শেষ মাথায় খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ খুবই প্রয়োজন।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সুখবাসপুর দিঘির পশ্চিম পাশে মাষ্টারবাড়ী মসজিদ ঘেষে পশ্চিম দিকে চিকন একটি রাস্তা চলে গেছে। সুখবাসপুর টঙ্গীবাড়ী সড়ক থেকে পশ্চিম দিকে ২শ মিটার গেলেই খালের উপর একটি বাঁশের সাঁকো।

সাঁকোটি পাড়ি দিতেই চোখে পড়ে কাঁচা মাটির রাস্তাটি। রাস্তাটি পরিত্যক্ত জঙ্গলের মতো পড়ে আছে। রাস্তার পাশে কলাগাছ আর সড়কজুড়ে জন্মানো ঘাষ । সুনসান নীরব সড়কটিতে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করছে।

রাস্তাটি দিয়ে হাঁটলে দিনের বেলাতেই ভয়। নীরব রাস্তাটিতে কোন নারী ও শিশুরা একা যেতে ভয় পাচ্ছেন। মূল সড়কে পথচারিরা অপেক্ষা করতে থাকেন, যখন দু”তিনজন পথচারি দেখেন তখনই তাদের সাথে সড়কটি দিয়ে অনেক অচেনা পথচারিদেরকে রাস্তাটি দিয়ে হেঁটে যেতে দেখা গেছে।

স্থানীয় মুরুব্বি আকবর আলী জানান, রাস্তাটিতে ঘাষ, লতাপাতা জন্মে জঙ্গলে পরিনত হয়েছে। রাস্তা দিয়ে চলার সময়ে মনে হয় গহীন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। রাস্তায় নেই কোন স্ট্রিট লাইটের আলোর ব্যবস্থা। সন্ধ্যার পরই রাস্তাটিতে ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

দিনের বেশিরভাগ সময়েও রাস্তাটি নির্জন থাকে। তিনি আরো জানান, রাতের বেলা রাস্তার উপর সাপ, বিচ্ছু,ব্যাঙসহ অন্যান্য প্রাণীর উপস্থিতি বেড়ে যায়। বৃষ্টি আর বর্ষার সময়ে নানা খাল এবং কৃষি জমি থেকে সাপ, ব্যাঙ, বিচ্ছা রাস্তায় উঠে আসে। রাস্তাটি পাকা করার পাশাপাশি রাস্তার পাশে লাইন লাগানো খুবই দরকার।

পথচারি রুবিনা বেগম জানান, রাস্তাটি পাকা হলে গাড়ীতে চলাচল করা যেতো। এই রাস্তায় ছেলে মেয়েরা একা আসা যাওয়া করতে ভয় পায়। দিনের বেলাতেই রাস্তাটিতে ভুতুরে পরিবেশ। সন্ধ্যার পর অন্ধকারে ডেকে যায় পুরো রাস্তাটি।

তিনি আরো জানান, রাস্তাটির পাশে লাইন লাগিয়ে দিলে গভীর রাতেও রাস্তাটি দিয়ে মানুষ হেঁটে চলাচল করতে পারতো। দ্রুত সময়ে সময়ে রাস্তাটি পাকা করে গাড়ী চলাচলের উপযোগী ও রাস্তার পাশে লাইন স্থাপনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রব মেম্বার বলেন, মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি দুর করতে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। খানাখন্দে ভরা রাস্তার কারণে পানহাটা, আটপাড়া ও হাশকিরা যাতায়াতে করতে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

তিনি আরো বলেন, কাঁচা মাটির সড়কটি পাকা করার পাশাপাশি সুখবাসপুর মসজিদের সামনে থাকা খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তি দূর হতো।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, কাঁচা মাটির রাস্তাটি পাকা করার পাশাপাশি হাশকিরা, আটপাড়া ও পানহাটা যাতায়াতের সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যদিকে কাঁচা মাটির সড়কটির পূর্বাংশে খালের উপর ব্রিজ নির্মান করলে লোকজন সহজে সুখবাসপুর প্রধান সড়ক হয়ে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে পারবে।

হাজারো মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি দূর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবে। এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স/এষ্