ঢাকাশুক্রবার , ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মাত্র ৯০ টাকায় ঘুরে আসুন ‘মিনি কক্সবাজার’

admin
সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২১ ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাত্র ৯০ টাকায় ঘুরে আসুন মিনি কক্সবাজার

মৈনট ঘাট ঘুরে এসে আহমদুল্লাহ : ঢাকার কাছেই দোহার উপজেলায় পদ্মা নদীর তীরের এই জায়গাটি পরিচিত পেয়েছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসাবে। কারণ নদী তীরে বালুকাবেলা আর পদ্মা নদীর ঢেউ মিলে অনেকটা সমুদ্র তীরের আদল আসে।

পর্যটকদের আনাগোনার কারণে এখানে নদী তীরে সমুদ্র সৈকতের মতোই ছাতাসহ বসার ব্যবস্থাও তৈরি হয়েছে। আশেপাশে রয়েছে অনেক খাবারের দোকান।

ঢাকা থেকে মাত্র ৯০ টাকা ভাড়ার দূরত্বে এক অপরুপ প্রাকৃতিক সুন্দর্য্যের স্থান পদ্মা নদীর তীর মৈনট ঘাট। সারিসারি আকাশ চুম্বি ইমারত, দমবন্ধ আবহাওয়া আর গাড়ির হর্নে অতিষ্ঠ ঢাকাবাসি। কর্ম শেষে স্বস্থির নিঃশেষ ফেলবার ফুর্সুরত নেই কোথাও। সময় নিয়ে বিনোদনের জন্য সিলেট, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি যাবার সময় খুব কম- ই মেলে। তাই দিন শেষে রাত আসে, সপ্তাহ কাটে মাস পার হয় বছর।

বিনোদনের সময় আর হয়না। কিন্তু এখন সকালে গিয়ে কক্সবাজারের স্বাদ নিয়ে আবার বিকালে ফিরে আসতে পারে মিনি কক্সবাজার থেকে। যেখানে সমুদ্রতীরে আছঁড়ে পড়া ঢেউ, ঘোড়শাওয়ার, স্প্র্রিটবোর্ড, ছোট নৌকা নিয়ে ছোট ছোট দল নিয়ে নদীর বুকে ঘুরেবেড়ানোর আনন্দ অব্যাক্ত অনুভুতি ফুটে ওঠে দর্শনার্থীদের চোখে মুখে।

এমনকি নগর দোলা, ড্রামদিয়ে তৈরি নদীর মাঝে ছোট ছোট ক্যাফে গুলোও পর্যটকদের দারুন ভাবে আকৃষ্ট করছে। বিশাল তীরে দর্শনার্থীরা বিভিন্ন ধরনের খেলা খেলে, সময়টা দারুণ উপভোগ করে এখনে ভ্রমণপিপাসুরা। এ যেন ব্যস্ত শহর ঢাকাবাসীর প্রচন্ড তৃষ্ণায় এক ঢোক পানির তৃষ্ণা নিবারনের মতো।

একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী শাহনাজ চৌধুরী চমক নিউজকে জানান, ঢাকার কাছে হাওয়াতে মাত্র দুই ঘণ্টায় এখানে আসা যায়। নদীর তীরে বিকালে বসে থাকলে খুব ভালো লাগে। বাচ্চারা যেন কক্সবাজারের একটা স্বাদ পেয়েছে।
ঢাকা থেকে বাস বা সিএনজি যোগে মৈনট ঘাট যাওয়া যায়।

চারদিকে বালু চিকচিক স্থলভূমি। সামনে রুপোর মতো চকচকে পানি। এটা পদ্মা। মৈনট পদ্মাপাড়ের একটি খেয়াঘাট। এখান থেকে রোজ ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল করে। এখনে আসলে সত্যিই দর্শক মুগ্ধ হবে পদ্মা নদীর অপরূপ জলরাশি দেখে।

কী নেই এখানে। বিশাল জলরাশি। পদ্মায় হেলেদুলে ভেসে বেড়ানো জেলেদের নৌকা। আর পদ্মার তীরে হেঁটে বেড়ানো। সব মিলে কিছুক্ষণের জন্য আপনার মনে হবে আপনি ঢাকার দোহারে নয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আছেন। মূলত এ কারণেই অনেকে মৈনট ঘাটকে বলে থাকেন ‘মিনি কক্সবাজার’।


একসময় মৈনট ঘাট থেকে ফরিদপুর যাতায়াতের জন্য কার্তিকপুর বাজার থেকে মৈনট ঘাট পর্যন্ত প্রশস্ত রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফেরির প্ল্যানটা বাস্তবায়ন না হওয়ার কারণে এই রাস্তাটিও অবহেলায়-অযত্নে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। অনেকদিন এভাবে থাকার কারণে অপ্রয়োজনে কেউ ওই দিকটায় তেমন একটা পা বাড়াত না।

 

সম্প্রতি সড়কটি পুনরায় মেরামত করার ফলে আবার আসতে শুরু করছে পর্যটক। এদের বেশির ভাগই আসছে দোহার, নবাবগঞ্জ, শ্রীনগর, কেরানীগঞ্জ থেকে। মৈনট ঘাট এখনও ব্যাপকভাবে পরিচিত না হওয়ার কারণে ভ্রমণপিপাসু অনেক মানুষই বঞ্চিত হচ্ছেন মৈনট ঘাটের সৌন্দর্য উপভোগ করা থেকে।

খুব ভোরে মৈনট ঘাটেই বসে আপনি দেখতে পাবেন সারা রাত পদ্মা নদীতে জেলেদের শিকার করা মাছের বাজার। পদ্মা নদীর সেই নামকরা ইলিশসহ অনেক প্রজাতির মাছই আপনি কিনতে পারবেন এখান থেকে, একদম টাটকা। মৈনট ঘাট দর্শনের উপযুক্ত সময় হচ্ছে বর্ষাকাল।

তখন রাস্তার দুই পাশের নিম্নভূমি, যেখানে বর্ষার আগে বিস্তীর্ণ ভূমিজুড়ে বাদামের চাষ করা হয়, আর সবই বর্ষায় পদ্মার পানিতে তলিয়ে যায়। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। বর্ষার আগে এর সৌন্দর্যের কমতি নেই। তখন দেখা যাবে পদ্মা নদীর শান্ত রূপ। একটা সন্ধ্যায় পদ্মা নদীতে সূর্যাস্ত দেখলে পরবর্তী একশোটা সন্ধ্যার কথা মনে থাকবে আপনার।

স্পিডবোট, ট্রলার অথবা খেয়ানৌকা নিয়ে পদ্মার বুকে ভেসে বেড়াতে পারবেন। আপনি চাইলে দুপুরে পদ্মার জলে গোসলও করতে পারেন।

কীভাবে যাবেন : ঢাকা থেকে মৈনট ঘাটে আসার সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়টি হচ্ছে গুলিস্তানের গোলাপ শাহর মাজারের সামনে থেকে সরাসরি মৈনট ঘাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসা যমুনা পরিবহনে চেপে বসা। ৯০ টাকা ভাড়া আর দেড় থেকে দুই ঘণ্টা সময়ের বিনিময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন মৈনট ঘাট। ফেরার সময় একই বাসে আবার ঢাকা চলে আসবেন। মৈনট থেকে ঢাকার উদ্দেশে শেষ বাসটি ছেড়ে যায় সন্ধ্যা ৬টায়। গুলিস্তানের একই স্থান থেকে এন মল্লিক পরিবহনেও আসতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে আপনাকে নামতে হবে নবাবগঞ্জের মাঝিরকান্দায়। ভাড়া ৭০ টাকা। মাঝিরকান্দা থেকে লোকাল অটোতে দোহারের বাঁশতলা। ভাড়া ১৫ টাকা। চাইলে লক্ষ্মীপ্রসাদ নামক স্থানে নেমে পোদ্দারবাড়ি নামক পুরোনো বাড়িটিও দেখে নিতে পারেন। আর জজবাড়ি, উকিলবাড়ি, কোকিলপ্যারি দালান, খেলারাম দাতার বাড়ি যাকে স্থানীয়ভাবে আন্ধার কোঠা বলা হয়, এসব দর্শনীয় স্থানগুলো ঘুরে দেখতে চাইলে মাঝিরকান্দার আগে কলাকোপা নামক স্থানেই নামতে হবে।

কোথায় থাকবেন : ট্যুরিস্টদের থাকার জন্য মৈনট ঘাটের আশপাশে কোনো হোটেল, রিসোর্ট, বোর্ডিং এখনো তৈরি করা হয়নি। স্থানীয় কোনো বাসিন্দার বাড়ি ম্যানেজ করতে না পারলে দিনে এসে দিনেই ফিরে যাওয়া ভালো।

কোথায় খাবেন : বেশির ভাগ মানুষেরই ইচ্ছা থাকে পদ্মার তীরে বসে পদ্মার সেই নামকরা ইলিশ খাওয়ার। মৈনট ঘাটে কিছু ভাতের হোটেল আছে। ইলিশ ৬০ থেকে ৯০ টাকা। বড় সাইজের ইলিশ খেতে চাইলে আগেই অর্ডার দিতে হবে। এ ছাড়া বোয়াল ৮০ থেকে ১০০ টাকা, চিংড়ি ৬০ থেকে আশি টাকা। ভাত ২০ টাকা প্লেট।

মনে রাখবেন অবশ্যই মিষ্টি খেয়ে আসবেন। নিরঞ্জন মিষ্টান্নভাণ্ডার, মুসলিম সুইটস, রণজিৎ মিষ্টান্নভাণ্ডারসহ আরো কিছু মিষ্টির দোকান আছে এখানে। চমচম ও কালোজাম ১৬০ টাকা কেজি।

সতর্কতা : একটি বিষয় সবার জানা দরকার। সাঁতার না জানলে গোসল করার সময় পদ্মার বেশি গভীরে যাবেন না। আপনার একটু অসচেতনতায় ঘটতে পারে বড় ধরণের দুর্ঘটনা।

স/এষ্