ঢাকাশুক্রবার , ২৬ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

পাবলিক প্লেসে নারী হয়রানি বাড়ছেই

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
আগস্ট ২৬, ২০২২ ৯:১১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পাবলিক প্লেসে নারী হয়রানি বাড়ছেই

৮৭% নারী জীবনে একবার হয়রানির শিকার
গণপরিবহনে ৩৬% নিয়মিত যৌন হয়রানির শিকার
প্রকাশ্যে নাজেহাল হয়েও সহায়তা পাননি ৪৪%
দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ও সামাজিক সচেতনতা জরুরি: বিশেষজ্ঞ মত

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশে প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী পাবলিক প্লেসে জীবনে অন্তত একবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। ২৪ টি জেলার ৫ হাজার নারীর ওপর চালানো একটি জরিপ থেকে এ তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা যায়, বাস-লঞ্চ-ট্রেনের টার্মিনালসহ গণপরিবহনে ৩৬ শতাংশ নারী নিয়মিত যৌন হয়রানির শিকার হন। উত্তরদাতাদের ৫৭ শতাংশ গণপরিবহনকে সবচেয়ে অনিরাপদ বলে মনে করেন।

ইউএনডিপি বাংলাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং সিআরআই যৌথভাবে এ জরিপটি পরিচালনা করে। গতকাল শুক্রবার গবেষণাধর্মী এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তা বিষয়ে সমাজের সংশ্লিষ্ট অংশীজন, তরুণ সমাজ ও নাগরিকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সিআরআই পলিসি ক্যাফেতে আলোচনা করেন নীতি নির্ধারকরা। আলোচনায় নারীর প্রতি সহিংসতা ঠেকাতে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা, সমাজে সচেতনতা তৈরি করা, পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জোর দেন বিশেষজ্ঞরা।

৮৭ শতাংশ নারী জীবনে অন্তত একবার হয়রানির শিকার:

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৮৭ শতাংশ নারী পাবলিক প্লেসে জীবনে অন্তত একবার হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে বাস-লঞ্চ-ট্রেনের টার্মিনালসহ গণপরিবহনে ৩৬ শতাংশ নারী নিয়মিত যৌন হয়রানির শিকার হন। উত্তরদাতাদের ৫৭ শতাংশ গণপরিবহনকে সবচেয়ে অনিরাপদ বলে মনে করেন।
গণপরিবহন ছাড়া রাস্তা, শপিং মল এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে নারীদের হয়রানিদের করা হয় বলে জরিপের ফলাফলে পাওয়া গেছে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টেক্সট মেসেজ, ইমেইলের মাধ্যমে ২৪ জেলার ৫ হাজার ১৮৭ জন নারীর বক্তব্য নিয়ে তা বিশ্লেষণ করে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে।

৫২ শতাংশ নারী দিনে হয়রানির শিকার:
এতে আরও বলা হয়, দিনের বেলা নারীরা হয়রানির শিকার হন। ৫২ শতাংশ নারী দিনে হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং বেশিরভাগ ঘটনা বিকেলের দিকে ঘটেছিল।
ফলাফলে দেখা যায়, হয়রানির প্রতিক্রিয়ায় ৩৬ শতাংশ নারী প্রতিবাদ করেছেন। হয়রানির শিকার হয়ে মাত্র ১ শতাংশ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চেয়েছেন।
সমীক্ষায় আরও দেখা যায়, প্রকাশ্যে হয়রানির শিকার হয়েও ৪৪ শতাংশ নারী কোনও সহযোগিতা পাননি।

লঞ্চে সাহায্য নয় উল্টো কটুক্তি শুনেছেন রুমি:
গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর কয়েকজন ভুক্তভোগী তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। এ সময় রুমি (ছদ্মনাম) নামে এক তরুণী তার অভিজ্ঞতা জানান।
লঞ্চের কেবিন থেকে রাতে ওয়াশরুমে যাচ্ছিলেন রুমি। ঢাকা থেকে বরিশালের রাতের লঞ্চে যাত্রা। সকালে বাড়ি পৌঁছাবেন। কিন্তু লঞ্চে ওঠার পর থেকে একটি লোক তার পিছু নেয়। রাতে ওয়াশরুম থেকে ফিরে দেখেন লোকটি তার কেবিনের দরজার সামনে দাঁড়ানো। খুব দ্রুতই রুমি বুঝে ফেলেন কেবিনের দরজা খুললেই তাকে ঠেলে নিয়ে কেবিনে ঢুকে যাবে এই লোক। সঙ্গে সঙ্গেই সহায়তার জন্য চিৎকার করে সে। কিন্তু তার এই চিৎকার শুনে যারা এগিয়ে আসেন তারা ওই পুরুষ লোকটিকে কিছু না বলে রুমিকেই বলেন ‘রাতে কেবিন থেকে বের হওয়া উচিত হয়নি’। এরপর তার পোশাক নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

দৃষ্টিভঙ্গি-মানসিকতা বদলানো জরুরি:
আলোচনা অনুষ্ঠানে নারী প্রগতি সংঘের নির্বাহী পরিচালক রোকেয়া কবীর বলেন, আমরা গত ৫০ বছর ধরে নারীর মর্যাদা, সম অধিকার, রাস্তাঘাটে শ্লীলতাহানি, নারী নির্যাতন, বহু বিবাহ, এসিড নিক্ষেপ এসব নিয়ে অনেক আন্দোলন করে আসছি। রাস্তাঘাট, কর্মস্থল, গণপরিবহন, কিংবা পাবলিক প্লেসে নারীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এ ধরণের অভিজ্ঞতা প্রায় সব নারীরই আছে। এটা রোধ করতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি-মানসিকতা বদলাতে হবে। পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

দুই লাখ পুলিশ সদস্যকে নিয়ে জেন্ডার সেন্সেটাইজেশন প্রোগ্রাম:
বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের সভাপতি ডিআইজি আমেনা বেগম বলেন, আমরা একটি অনলাইন কারিকুলাম ডেভেলপ করছি। যেখানে দুই লাখ পুলিশ সদস্যকে আমরা জেন্ডার সেন্সেটাইজেশন করাবো। সেসব পুলিশ সদস্যরাও কিন্তু এই সমাজের অংশ, আমার আপনার মত কোন না কোন পরিবারের সন্তান। যেখানে হয়তো মেয়েদের সম্মান করা হয় না। কিছু দিন আগে এক নারী টিপ পড়ায় এক পুলিশ সদস্য কটুক্তি করেছিলেন। এটা কিন্তু পুলিশে তাকে শেখানো হয় নি। এটা সে পরিবার থেকে শিখে এসেছে। আমার মনে হয় সব জায়গায় এই পরিবর্তনটা আনতে হবে।

পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নিতে পারছে না সরকার:
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নীলিমা আক্তার বলেন, সরকার থেকে যে মাত্রায় ব্যবস্থা নেয়া উচিত সেভাবে আমরা করতে পারছি না। মনোজগতে একটা বিশাল পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের মায়েদেরকে বলতে হবে, বোনেদের বলতে হবে, বাবাদের বলতে হবে। এমন পারিবারিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে যাতে এই জিনিসগুলো বন্ধ করা যায়।

নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে:
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগম বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কোন ভাবেই মেনে নেয়া যায় না। একটি সমাজের উন্নয়নের জন্য নারীর অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা আমাদের অনেক অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে। আমরা এর থেকে বেরিয়ে আসার জন্য হাইকোর্টের ২০০৯ সালের গাইডলাইন অনুসারে একটি খসড়া আইন প্রনয়ন করেছি। যা আইনমন্ত্রীর কাছে এরই মধ্যে হস্তান্তর করা হয়েছে। আমরা আশা রাখি মন্ত্রী মহোদয় এই আইনের বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

লেটস ওয়ার্ক টুগেদার: মেয়র আতিক
অনুষ্ঠানে সর্বক্ষেত্রে নারীর জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সচেতনতা সৃষ্টির উপর গুরুত্বারোপ করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আমরা বলতে চাই, লেটস ওয়ার্ক টুগেদার। লেফট নো ওয়ান টু বি বিহ্যান্ড। এই চিন্তা নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।

সামাজিকভাবে সচেতন না হলে আইন করে লাভ নেই: আইনমন্ত্রী
আলোচনার শেষ অংশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, এটা একটা সামাজিক ব্যধি। তাই সমাজে আমাদের সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। নারীরা এখন ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে, তারা সক্ষমতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ অনেক এগিয়ে গেছে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। আমরা যদি এই সুযোগটা নিয়ে নারীদের প্রতি যে হয়রানিমূলক কর্মকাণ্ড করা যাবে না সে সম্পর্কে যদি সোচ্চার হই, অবশ্যই কিন্তু মানুষ শিখবে এবং সেটা করা থেকে বিরত থাকবে। আইন অনেক আছে, এখন নতুন আইনও করা হবে। কিন্তু সোসাইটাল এপ্রোচ যদি আমরা পজিটিভলি গ্রহন না করি তাহলে কিন্তু আইন করে লাভ হবে না।

স/এষ্